World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

টিকে রইল আট দল, বিশ্বকাপে এখনও গোল হজম করেনি যারা

টিকে রইল আট দল, বিশ্বকাপে এখনও গোল হজম করেনি যারা

চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্সও অপ্রতিরোধ্য। একক নৈপুন্যে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন আর্লিং হালান্ড। এদিকে ১৯৬৬ সালের পুনরাবৃত্তির আশায় বুক বেঁধেছে ইংল্যান্ড। এছাড়া সুইজারল্যান্ড, মরক্কো ও বেলজিয়ামও ইতিহাস গড়তে মরিয়া।

এই সাত দলের সবাই দারুণ ছন্দে থাকলেও সবার থেকে নিজেদের আলাদা করে রেখেছে স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া সব দলগুলো গোল হজম করলেও নিজেদের গোলবার অক্ষত রেখেছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

গ্রুপ পর্ব থেকে নক-আউট পর্বের দুই ম্যাচে স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল এক কথায় অনবদ্য। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু করলেও পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের শক্তিমত্তা পুরোপুরি মেলে ধরেছে দিদিয়ের দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

সৌদি আরবের বিপক্ষে তারা জিতেছে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশরা। ৩ ম্যাচে ৫ গোল করার পাশাপাশি গোল হজমের খাতায় ‘শূন্য’ ধরে রেখেছে তারা।

রাউন্ড অব বত্রিশে স্পেন মুখোমুখি হয়েছিল ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখা অস্ট্রিয়ার। এই ম্যাচে অস্ট্রেয়া রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশরা। ওয়ারজাবালের জোড়া গোলের সুবাদে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জেতে স্পেন। আর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে তারা হারিয়েছে ১-০ গোল ব্যবধানে।

গ্রুপ পর্ব থেকে রাউন্ড অব সিক্সটিনের খেলা শেষে প্রতিপক্ষের গোলবারে মোট নয়বার বল পাঠিয়েছেন লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। পক্ষান্তরে কোনো গোল হজম করতে হয়নি তাদের।

এদিকে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকোও স্পেনের সমানতালে খেলে যাচ্ছিলো। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায়ের আগে তারাও তাদের জাল অক্ষত রাখতে পেরেছিল।

কোয়ার্টার ফাইনালে উঠা বাকি সাত দলের গোল হজমের পরিসংখ্যান কী?

আর্জেন্টিনা

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে তাদেরই এগিয়ে রাখছেন অনেকে। নাটকীয়তার পর মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার উঠার আলবিসেলেস্তেরা মোট হজম করেছে পাঁচটি গোল। আর প্রতিপক্ষের জালে মেসিরা বল পাঠিয়েছে মোট ১৪ বার।

ফ্রান্স

বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করছে ফ্রান্স। এখনও কোনো ম্যাচের হারেনি স্বাদ তো পায়নি, অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচ গড়ায়নি। গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে জয়ের দেখা পাওয়া দলটি প্রতিপক্ষের জালে পাঠিয়েছিল ১০টি বল। তবে হজম করেছে দুটি। আর নক আউট পর্বের দুই ম্যাচে চার গোল দিয়ে কোনো গোল হজম করেনি।

মরক্কো

গ্রুপ পর্ব এবং নক আউট মিলিয়ে প্রতিপক্ষের গোলবারে মোট ১০টি বল পাঠিয়েছে মরক্কোর ফুটবল দল। টাইব্রেকার বাদে তারা হজম করেছে চারটি।

বেলজিয়াম

গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের দেখা না পাওয়া বেলজিয়ামের নক আউট উঠা যেন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েই উঠেছে নক আউটে। সেখানে তিন ম্যাচে তারা হজম করে দুটি গোল। নক আউট পর্বে তারা হজম করেছে আরও তিনটি গোল।

নরওয়ে

ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। এই যাত্রায় তারা গোল দিয়েছে ১২টি, হজম করেছে নয়টি।

ইংল্যান্ড

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট মানা হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। থ্রি লায়ন্সরা তাদের প্রতিপক্ষকে দিয়েছে মোট ১১টি গোল। আর হজম করেছে পাঁচটি।

সুইজারল্যান্ড

দীর্ঘ ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনাল উঠা সুইজারল্যান্ড প্রতিপক্ষকে দিয়েছে মোট নয়টি গোল। আর হজম করেছে তিনটি।

এমএমএম/