ডিহাইড্রেশন বিরতিতে ফুটবলাররা সাধারণত পানীয় গ্রহণ করেন। তবে বোতল থেকে পানি মুখে নিলেও তা গিলে ফেলেন না। বরং কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে বাইরে ফেলে দেন। অনেকের কাছে বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স’ নামে পরিচিত একটি কৌশল। দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রমের সময় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে এবং ক্লান্তি কম অনুভব করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড মুখে রেখে কুলকুচি করলে মুখের বিশেষ রিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এতে মস্তিষ্ক মনে করে শরীরে নতুন শক্তি আসছে। ফলে পানীয়টি না গিললেও খেলোয়াড়রা কিছুটা বেশি উদ্যম নিয়ে খেলতে পারেন।
ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই কৌশল ব্যবহার করা সাইক্লিস্টরা ৪০ কিলোমিটারের রেসে গড়ে প্রায় এক মিনিট কম সময়ে শেষ করতে পেরেছেন।

শুধু শক্তির অনুভূতি বাড়ানোই নয়, এই পদ্ধতির আরেকটি সুবিধা হলো পেটের অস্বস্তি এড়ানো। ম্যাচ চলাকালে বেশি কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে অনেকেরই হজমে সমস্যা বা পেট ভারী লাগতে পারে। তাই অনেক খেলোয়াড় পানীয়টি গিলে না ফেলে শুধু মুখে কুলকুচি করেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কৌশল দীর্ঘ সময়ের জন্য যথেষ্ট নয়। সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার উচ্চমাত্রার ব্যায়ামে এটি কার্যকর। এরপর শরীরের শক্তি ধরে রাখতে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার বা পানীয় গ্রহণ করতেই হয়।
সাধারণত এ ধরনের পানীয়তে মল্টোডেক্সট্রিন নামে একটি সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট থাকে। এটি বিভিন্ন স্পোর্টস ড্রিংক ও এনার্জি সাপ্লিমেন্টে ব্যবহৃত হয় এবং খেলোয়াড়দের দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
আইএইচ

