ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচে অনেক তারকা নজরে থাকবেন। তবে উপেক্ষার জবাব দিতে তৈরি থাকবেন একজন—ইসা দিয়োপ।
বোস্টনে আজকের লড়াইয়ে অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছেন এই ডিফেন্ডার। যাকে অবহেলা করার খেসারত দিতে হতে পারে ফ্রান্সকে। জন্মসূত্রে ফরাসি দিয়োপ, খেলছেন মরক্কান হিসেবে। তবে তার স্বপ্ন ছিল ফ্রান্সের হয়ে খেলার। খেলেছেনও, তবে সিনিয়র জাতীয় দলে নয়, যুব পর্যায়ে।
এই বিশ্বকাপে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ভালোভাবে টিকে থাকা কিলিয়ান এমবাপেকে মার্কিংয়ের দায়িত্ব থাকবে দিয়োপের ওপর, যারা আবার একসময়ে জাতীয় দলে সতীর্থ ছিলেন।
/i.s3.glbimg.com/v1/AUTH_bc8228b6673f488aa253bbcb03c80ec5/internal_photos/bs/2026/P/5/hnPxDUQvaHR40ZUOA55Q/whatsapp-image-2026-07-08-at-19.34.11.jpeg)
ফুলহ্যাম ডিফেন্ডারের জন্ম তুলোসে। নিজের ফরাসি ঐতিহ্য ত্যাগ করার কথা কখনো ভাবেননি। মরক্কান মা ও সেনেগালি বাবা, তাই তো আফ্রিকান বিভিন্ন ক্লাবের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু ওই যে ফ্রান্সে খেলার তীব্র বাসনা থেকে সবাইকে না করে দিয়েছিলেন। তার আশা ও বিশ্বাস ছিল, একটা সময় দিদিয়ের দেশমের ডাক পাবেন তিনি।
সেই চেষ্টা বিফলে যায়নি। ফ্রান্সের সব যুব দলেই খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব ১৭ তে তিনি নীল জার্সিতে খেলেছেন ৪০ ম্যাচ, বিশেষ করে ২০১৬ ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-১৯ এ। ওইবার ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেছিলেন, যে দলে ছিলেন এমবাপে ও থুরাম।
পেশাদার হওয়ার পর তার আশা ভেঙে যায়। প্রিমিয়ার লিগে লম্বা ক্যারিয়ার। খেলেছেন ওয়েস্ট হ্যামেও। কিন্তু দিয়োপকে কখনো ডাকেননি দেশম, তবে এই ডিফেন্ডার নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।
দিয়োপ বললেন, ‘আমি ফরাসি, ফ্রান্সে জন্ম। ফ্রান্স আমাকে সবকিছু দিয়েছে। শুধু ফরাসি দল ডাকেনি বলে অন্য কোনো জাতীয় দলের হয়ে খেলা আমার জন্য ভন্ডামি হয়ে যেতো। বাধ্যবাধকতা থেকেই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হতো।’
/i.s3.glbimg.com/v1/AUTH_bc8228b6673f488aa253bbcb03c80ec5/internal_photos/bs/2026/A/q/czoiSjQBCCeiNfzS2YyQ/whatsapp-image-2026-07-08-at-19.34.11-2-.jpeg)
সবকিছু পাল্টে যায় মোহামেদ ওয়াহবি মরক্কান দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর। এই মার্চে কোচ দিয়োপকে ডাক দেন। নিজের যুক্তিতর্ক দিয়ে তাকে বোঝান কেন মরক্কোর হয়ে তার খেলা উচিত। শেষ পর্যন্ত তাকে রাজি করাতে পেরেছেন। তাতে ২৯ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে গেলেন।
দিয়োপের অতীতের বক্তব্য মরক্কানদের অস্বস্তিতে ফেলেছিল। কিন্তু ওয়াহবি তার পাশে, ‘যখন সে ছোট ছিল, সে ফ্রান্সের হয়ে খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু কখনো বলেনি সে মরক্কোর বিরুদ্ধে। আমাদের অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। আসল হলো ভবিষ্যৎ।’
দিয়োপ মরক্কোর হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলেন মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে। চাডি রিয়াদের সঙ্গে শুরুর একাদশে জায়গা পাকা করতে সময় লাগেনি তার। এই বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে শেষ মুহূর্তে তার গোলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তারপর টাইব্রেকারে জেতে আফ্রিকানরা।
শুধু দিয়োপ একলা নয়, আরও ফ্রান্সের খেলোয়াড় থাকবেন এমবাপে-দেশমের প্রতিপক্ষ দলে। ডিফেন্ডার রেদুয়ান হালহাল, মিডফিল্ডার নিল এল আইনাউই, ফরোয়ার্ড জেসিম ইয়াসিন, মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি ও এল মৌরাবেত। এরা সবাই ফ্রান্সে জন্ম নিয়েছেন, কিন্তু খেলছেন মরক্কোর হয়ে।
এই ছয়জনই ফ্রান্সের মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন। তবে দিয়োপ হতে পারেন বড় কারণ। দেশমকে হয়তো বুঝিয়ে দেবেন, তাকে না ডেকে কতটা ভুল করেছেন তিনি!
এফএইচএম

