World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড : ১২ বছর আগে শেষ দেখায় হয়েছিল রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড : ১২ বছর আগে শেষ দেখায় হয়েছিল রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ

২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর আর দেখা হয়নি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের। ১২ বছর পর তারা আবারও মুখোমুখি হচ্ছে চলমান আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে। এর আগে আলোচনায় আসছে উভয়ের সর্বশেষ ম্যাচের স্মৃতি। ওই ম্যাচের ১১৮তম মিনিটে আনহেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে জেতে আসরটির ফাইনালে খেলা আলবিসেলেস্তেরা।

সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের সেই শেষ ষোলোর ম্যাচের পর অনেক কিছুই বদলে গেছে। তখন আর্জেন্টিনা একদিকে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থাকা মেসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যের ওপর ভর করছিল, অন্যদিকে প্রায় তিন দশকের বিশ্বকাপ শিরোপা-খরা কাটানোর চাপও সামলাচ্ছিল। বিপরীতে, বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশ নিলেও ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল সুইসরা।

dhakapost

২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে সবমিলিয়ে দাপট ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু কিছুতেই তারা ডেডলক ভাঙতে পারছিল না। সুইসরাও বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত ছিল আক্রমণ সামলানোর কাজে। ফলে গোলশূন্য ৯০ মিনিটের পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও অপেক্ষা ফুরোচ্ছিল না। শেষমেষ টাইব্রেকার-টাইমের আগমুহূর্তে ১১৮ মিনিটে মেসির বাড়ানো বল নিয়ে বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের দারুণ এক শটে জাল কাঁপান ডি মারিয়া। সুইসরা এরপর মরিয়া হয়ে উঠলেও স্কোরলাইন ১-০ অক্ষত থাকে।

এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এসেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। ২০২২ কাতার আসরে বিশ্বসেরা হওয়ার আগে তারা ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে রানার্সআপ হয়েছিল মেসি-ডি মারিয়ারা। এখন ৩৯ বছর বয়সী মেসি আর আগের মতো শারীরিকভাবে তুঙ্গে না থাকলেও, এখনও তিনি টুর্নামেন্টের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। চলমান আসরের (৮) পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২১)।

dhakapost

শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য ৩-২ ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ানোর জয়ে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন অধিনায়ক মেসি। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এরপর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে কামব্যাকের গল্প লেখে লিওনেল স্কালোনির দল। রুদ্ধশ্বাস সেই ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘আমরা আবারও অনেক কষ্ট করে জিতেছি, কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। প্রতিটি ম্যাচই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে। এই দল কখনও হাল ছাড়ে না, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যায়।’

অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডও নিজেদের ইতিহাস গড়েছে। গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মুরাত ইয়াকিনের দল। তাই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও নিজেদের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। আবার মেসিদের ফেভারিটের চোখে দেখলেও, তাদের অপরাজেয মানছেন না সুইস কোচ। 

২০১৪ সালের সেই ম্যাচের তিনজন এখনও দুই দলে খেলছেন– মেসি, সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা এবং ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ। ৩৩ বছর বয়সী জাকা মেসিকে নিয়ে বলেন, ‘তার যুগে খেলতে পারা সত্যিই সৌভাগ্যের। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আমরা তার বিপক্ষে খেলেছিলাম এবং হেরেছিলাম। আমরা জানি তার গুণগত মান কতটা, তিনি কী করতে পারেন। তবে শুধু তিনি নন, পুরো দলই দারুণ।’

এএইচএস