বিশ্বকাপ থেকে আকস্মিক বিদায়ের ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারছে না ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গন। সাবেক তারকাদের অনেকেই সমালোচনা করছেন। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন ভরাডুবির পর এবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ও কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোমারিও।
দীর্ঘ শিরোপখরায় থাকা ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন পূরণে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। যদিও ব্রাজিলের ভাগ্য খুব একটা বদলায়নি। উল্টো কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে এবারের আসরে। দল ছিটকে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই।
নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের এভাবে হেরে বিদায়কে ‘ক্ষমার অযোগ্য লজ্জা’ বলছেন রোমারিও। এমন হারের জন্য আনচেলত্তির কৌশলকে দায়ী করেছেন রোমারিও। তাই এই কোচের অধ্যায় এখনই শেষ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
চুক্তির মেয়াদ বা কোনো আইনি জটিলতা থাকলেও আনচেলত্তিকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়ে এই কিংবদন্তি বলেন, ‘এই লজ্জাজনক বিদায়ের পর আনচেলত্তির আর এক মুহূর্তও ব্রাজিল দলের কোচ থাকার যোগ্যতা নেই। আমি হলে ওর চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলে বলতাম, পারলে আমার নামে মামলা করো।’ প্রসঙ্গত, আনচেলত্তির ওপর আস্থা রাখছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের দায়িত্বে ইতালিয়ান এই কোচ থাকছেন বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ১৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে গোল করার সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণতুর্কি এনড্রিক। কিন্তু বল পোস্টের বাইরে মারেন তিনি। বয়স কম বলেই এনড্রিক ভুল করেছেন—এমন কোনো অজুহাত মানতে নারাজ রোমারিও।
নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘রোমারিও টিভি’তে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছে ও এখনো তরুণ। আরে ভাই, তরুণ নাকি বুড়ো তা দিয়ে আমার কী কাজ? মাঠে থাকলে গোলটা তাকেই করতে হবে। সুযোগ যখন এসেছে, দায়িত্ব নিয়ে গোল করতে হবে, এখানে অন্য কোনো কথা নেই। এনড্রিকের ওই মিসটা সম্পূর্ণ ওর নিজের খামখেয়ালিপনা। আমি ওকে পছন্দ করি, ও আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ও ভীষণ বাজে খেলেছে।’
দলের মূল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেতৃত্বের অভাব নিয়েও কথা বলেছেন রোমারিও। ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেন ব্রুনো গিমারায়েস। কোচের পূর্বনির্ধারিত ছক অনুযায়ী ব্রুনো পেনাল্টি নিলেও রোমারিওর মতে, দলের সেরা তারকা হিসেবে ভিনিসিয়ুসেরই উচিত ছিল দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি ব্রুনো নাকি ভালো পেনাল্টি নেয়, তাই কোচ তাকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো ভালো কথা। কিন্তু ভাই, মাঠে তো লিডারশিপ দেখাতে হবে। ভিনি এখন এই দলের প্রাণভোমরা, সেরা খেলোয়াড়। ওর উচিত ছিল নিজেই বলটা কেড়ে নিয়ে শট নেওয়া এবং গোল করে সমস্যার সমাধান করা।’
এফআই

