বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচে একটি গোল করলেও পেনাল্টি মিস করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। ম্যাচের পর আলোচনায় তার পেনাল্টি মিস এবং সেটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
ম্যাচের ২৮তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল ফ্রান্স। বক্সের ভেতরে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলের শিকার হন এমবাপে নিজেই। পেনাল্টি আদায়ের পর ফরাসি ফরোয়ার্ড শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও তাৎক্ষণিকভাবে কিক নিতে পারেননি। ভিএআর পর্যালোচনার কারণে তাকে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয়।
এরই মধ্যে পেনাল্টি স্পটের কাছে অবস্থান নেন উসমান দেম্বেলে, যাতে মরক্কোর খেলোয়াড়রা কোনোভাবে স্পট নষ্ট করতে না পারেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এমবাপেকে একাধিকবার বলের অবস্থান ঠিক করতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত শট নিলেও প্রত্যাশিত দৃঢ়তা দেখা যায়নি তার কিকে। তুলনামূলক ধীরগতির সেই শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
পেনাল্টি মিস করার পর হতাশা প্রকাশ করেন এমবাপে। হাত নাড়িয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখাতে দেখা যায় তাকে। পরে হাইড্রেশন ব্রেকের সময় সরাসরি রেফারির কাছে গিয়ে নিজের ক্ষোভও জানান ফরাসি অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে পেনাল্টি মিসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এমবাপে বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তাই তার মনোযোগ নষ্ট করে দেয়, ‘আমি পেনাল্টিটা মিস করেছি কারণ সেখানে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতিটা কঠিন ছিল। রেফারি প্রথমে আমাকে বললেন এটি পেনাল্টি, কিন্তু পরে এসে বললেন, এটি হয়তো পেনাল্টি নাও হতে পারে। এতে আমার মনোযোগ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।’
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম আইটিভির ধারাভাষ্যকার অ্যালি ম্যাককোইস্টও ভিএআর প্রক্রিয়ার লম্বা সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো ছিল অপ্রয়োজনীয়। তবে একই সঙ্গে এমবাপের শট নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
ম্যাককোইস্ট বলেন, ‘আপনার অসন্তোষ থাকতেই পারে। কিন্তু তাই বলে পেনাল্টি নিতে গিয়ে এভাবে থেমে থেমে দৌড়ে এসে গোলরক্ষকের নাগালে বল মারার কোনো কারণ নেই। রান-আপে আরও দৃঢ়তা এবং স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল।’
এইচজেএস

