বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হবে স্পেন ও বেলজিয়াম। টুর্নামেন্ট যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছে বেলজিয়াম। তবে শেষ চারে ওঠার পথে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল স্পেন।
গ্রুপ ‘জি’র চ্যাম্পিয়ন হলেও শুরুতে খুব একটা ধারাবাহিক ছিল না বেলজিয়াম। এরপর শেষ ৩২-এর ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে তারা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করেন চার্লস ডি কেতেলারে। পরে বদলি হিসেবে নেমে গোলের দেখা পান হান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকু। পুরো ম্যাচজুড়ে বেলজিয়াম আক্রমণভাগে ছিল অনেক বেশি কার্যকর ও আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে লুকাকুর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। চলতি বিশ্বকাপে তার তিনটি গোলই এসেছে বদলি হিসেবে নেমে। বিশ্বকাপের এক আসরে বদলি হিসেবে নেমে এর চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছেন শুধু ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিল্লা, যিনি ১৯৯০ সালে চার গোল করেছিলেন। তবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও স্পেনের বিপক্ষে লুকাকুকে আবারও বেঞ্চে বসতে হতে পারে।
বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের উন্নতির প্রমাণ মিলছে পরিসংখ্যানেও। চলতি বিশ্বকাপে তাদের শট থেকে গোল করার হার ১২.১ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শুধু ২০১৮ বিশ্বকাপে এই হার ছিল আরও বেশি, ১৫.২ শতাংশ।
সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও দারুণ ছন্দে রয়েছে দলটি। এবারের আসরে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২১.৪টি শট নিয়েছে বেলজিয়াম। পাঁচ ম্যাচে মোট শট ১০৭টি, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক পরিসংখ্যান।
তবে বেলজিয়ামের এই আক্রমণভাগের সামনে এবার স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা ষষ্ঠ ক্লিনশিটের রেকর্ড গড়েছে স্পেন। বিশ্বকাপে টানা ১০ ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে কোনো গোল হজম করেনি তারা। চলতি বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে স্পেনের প্রত্যাশিত গোল হজমের গড় মাত্র ০.৩০, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো দলের এক আসরে সর্বনিম্ন।
স্পেনের আক্রমণে এবার বড় ভরসা লামিন ইয়ামাল। ১৭ বছর বয়সী এই উইঙ্গার ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে ১৭টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেছেন। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি সফল ড্রিবল করা কিশোর ফুটবলার মাত্র দুজন—জামাল মুসিয়ালা (১৯টি, ২০২২) এবং কিলিয়ান এমবাপে (২২টি, ২০১৮)।
মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন রদ্রি। চলতি বিশ্বকাপে তার ৮০টি লাইন-ব্রেকিং পাস স্পেনের হয়ে ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ। সেবার জাভি, জেরার্দ পিকে ও জাবি আলোনসো এই পরিসংখ্যানে আধিপত্য দেখিয়েছিলেন।
কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনেও দুর্দান্ত রেকর্ড স্পেনের। বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তার অধীনে খেলা ছয় ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে স্পেন। ইউরোপীয় কোনো দেশের কোচ হিসেবে প্রথম সাতটি নকআউট ম্যাচ জয়ের কীর্তি এর আগে গড়েছেন শুধু ইতালির ভিতোরিও পোজ্জো এবং স্পেনের ভিসেন্তে দেল বস্কে।
তবে অতীতের একটি স্মৃতি স্পেনকে সতর্ক করতেই পারে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনকে বিদায় করেছিল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে দুই দলের তিনটি সাক্ষাতের একটিতে জয় বেলজিয়ামের, অন্যটিতে জয় স্পেনের।
সাম্প্রতিক ইতিহাস অবশ্য স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে। ২০১৬ সালের পর দুই দল আর মুখোমুখি হয়নি। তারও আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত ছিল স্পেন। এই সময়ে তারা জিতেছে ৯টি ম্যাচ, ড্র করেছে ২টি।
অপটা সুপারকম্পিউটারও স্পেনকেই এগিয়ে রাখছে। তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৫৯.৩ শতাংশ। বেলজিয়ামের সম্ভাবনা ১৮.৩ শতাংশ এবং ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ। অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিলে স্পেনের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা দাঁড়ায় ৬৯.৫ শতাংশ।
এইচজেএস

