World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

কতটা কাঠখড় পুড়িয়ে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পান রেফারিরা?

কতটা কাঠখড় পুড়িয়ে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পান রেফারিরা?

বিশ্বকাপে গৌরব অর্জনের লড়াইয়ে নেমেছিল ৪৮ দল। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছানোর জন্য সমানভাবে এক ক্লান্তিকর পথ পাড়ি দিয়েছে আরেকটি দল— তারা রেফারি।

চলতি বছরে ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্ধিত ফরম্যাটে এবার রেকর্ড ৪৮ দল এবং ১০৪টি ম্যাচ। তাই রেফারির সংখ্যাও বেড়েছে- ১৭০ জনের এই বিশাল দল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়।

এই ম্যাচ অফিশিয়ালরা সব মহাদেশীয় কনফেডারেশনের ৫০টি ফিফা সদস্য দেশ থেকে এসেছেন। এর মধ্যে আটজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কাতার বিশ্বকাপে নারী রেফারি অন্তর্ভুক্ত করেছিল ফিফা। সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবারও তাদের মধ্যে ছয়জন নারী রয়েছেন।

রেফারির ভূমিকা হঠাৎ করেই স্পটলাইটে চলে এসেছে। টুর্নামেন্টের জন্য নির্ধারিত একজন সোমালি রেফারি ‘নিরাপত্তা যাচাইকরণ সংক্রান্ত জটিলতার’ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। উদ্বোধনী ম্যাচেই রেকর্ড তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, চীন জাতীয় দল কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পর সে দেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে একজন রেফারির পেছনে সমর্থকেরা একত্রিত হচ্ছেন। এছাড়া একাধিক ম্যাচে রেফারিদের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো আছেই।

Referees train quite hard to be match fit, especially to keep up with athletes who are, many times, much younger than they are.

রেফারি হওয়া বেশ গৌরবের বিষয়, বললেন ২০০২ সালে ব্রাজিল ও জার্মানির মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের অন্যতম সহকারী রেফারি লেইফ লিন্ডবার্গ, ‘এটি ছিল আমার প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং ঘরের মাঠে দক্ষিণ কোরিয়ারও ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। গ্যালারিতে ৫০,০০০ দর্শক ছিলেন লাল জার্সি পরে। সেই গর্জন ছিল অবিশ্বাস্য।’ সিএনএন স্পোর্টসকে তার ৪ জুন ২০০২-এর বিশ্বকাপ অভিষেকের কথা স্মরণ করে বললেন, ‘আমাদের প্রত্যেকেরই স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপে রেফারি হওয়া।’

তবে সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কেবল কঠোর পরিশ্রম আর মাঠের নিখুঁত রেকর্ডই যথেষ্ট নয়। অনেকের জন্য একটি পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করা ছিল অনেক পরিশ্রমের। এমনকি তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও বিপদ ডেকে আনে।

লিন্ডবার্গ বললেন, ‘অধিকাংশ রেফারিকেই অন্তত একটি বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অনেকেই কোনো না কোনোভাবে পারিবারিক জীবনকে বিসর্জন দেন।’ তিনি এখন অবসরে আছেন এবং নিজের দ্বিতীয় দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। 

যেভাবে রেফারি নির্বাচন করা হয়

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া কাতার ২০২২-এর পরপরই শুরু হয়ে গিয়েছিল।

প্রার্থীদের সেমিনারে অংশ নিতে হয়েছে, ফিটনেস টেস্ট দিতে হয়েছে এবং এর আগে ফিফা টুর্নামেন্ট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়েছে। কমিটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করার আগে গত তিন বছর ধরে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

সাবেক সহকারী রেফারি রেনাতো ফাভেরানি সিএনএন স্পোর্টসকে ব্যাখ্যা করেন, ‘বিশ্বকাপের আগের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমাদের এক বা দুজন পর্যবেক্ষক থাকেন।’ তিনি আরও জানান, এলিট পর্যায়ের রেফারিদের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে একই অফিশিয়েটিং টিমে রাখা হয় এবং দলগতভাবে তাদের মূল্যায়ন করা হয়।

২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানি ও আর্জেন্টিনার ফাইনালসহ চার ম্যাচে কাজ করা এই ইতালিয়ান বলেন, ‘ম্যাচ শেষে আপনি একটি মূল্যায়ন পাবেন, যা পরে অন্যান্য রেফারি দলের সাথে তুলনা করা হয়।’

এমনকি বিবেচনার তালিকায় আসাও কম বড় কৃতিত্ব নয়। কারণ কেবল শীর্ষ স্তরের ফিক্সচারে সক্রিয় রেফারিরাই এই দৌড়ে থাকেন। যেমন, নিয়োগ পাওয়ার আগে ফাভেরানি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (এমনকি ২০১৩ ফাইনাল), ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও সিরি আ-সহ বিভিন্ন বড় আসরে রেফারি হিসেবে কাজ করার বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।

Argentina superstar Lionel Messi talking to assistant referee Renato Faverani during the 2014 World Cup Final between Germany and Argentina.

একবার বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর টুর্নামেন্ট যত সামনের দিকে এগোয়, রেফারিদের ফর্মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি ম্যাচের তিন থেকে চার দিন আগে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্বার্থের সংঘাত এড়াতে ফিফা অফিশিয়ালদের নিজেদের দেশের ম্যাচে দায়িত্ব পালন নিষিদ্ধ করে। যার ফলে নকআউট পর্বের জন্য প্রার্থীদের কোনো পূর্বনির্ধারিত তালিকা থাকে না।

সুইডেনের লিন্ডবার্গ স্মরণ করেন, ‘আমাদের নিজেদের জাতীয় দলকে অনুসরণ করা এবং তারা যেন হেরে যায় সেই আশা করাটা ছিল খুবই অদ্ভুত এক মুহূর্ত। তারা যদি সেমিফাইনালে উঠত, তবে আমাকে বাড়ি ফিরে যেতে হতো। সুইডেন রাউন্ড অব সিক্সটিনে খুব দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল, কিন্তু সেটি আমার জন্য বেশ সৌভাগ্যের ছিল।’

ফাইনালের সেই ডাক

তাহলে রেফারিরা কীভাবে জানতে পারেন যে তারা ফাইনাল ম্যাচের জন্য মনোনীত হয়েছেন? ফুটবলের চূড়ান্ত ম্যাচের জন্য নির্বাচিত হওয়াটা আবেগের এক বিশাল ঢেউ তোলে।

হোটেলের কাছে একটি অনুশীলন সেশন থেকে ফিরে ফাভেরানি দেখতে পান সব রেফারি একটি বিশাল হলের ভেতর জড়ো হয়ে বসে আছেন। এরপর ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার সামনে এসে দাঁড়ালেন, একটি কাগজের শিট খুললেন এবং পড়তে শুরু করলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারিরা হলেন: মিস্টার...’। ফাভেরানির নাম ঘোষণা করার আগে কয়েক সেকেন্ডের টানটান উত্তেজনা চলে। ইংল্যান্ডের হাওয়ার্ড ওয়েব, নি ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনালের রেফারি ছিলেন। তিনিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সহকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে আসেন।

A World Cup playoff featuring Cristiano Ronaldo and Zlatan Ibrahimovic in 2013 was a challenging match to referee, says assistant referee Faverani.

ফাভেরানি বললেন, ‘দুই বা তিন ঘণ্টার জন্য এটি ছিল জীবনের সেরা মুহূর্ত। এরপরই চাপ এবং দায়িত্ববোধ এসে ভর করল। আপনি শুধু প্রার্থনা করবেন ম্যাচটি যেন দ্রুত চলে আসে, কারণ মানসিক চাপ তখন অনেক বেশি থাকে।’ আনন্দ কাটিয়ে ওঠার পরপরই শুরু হয়ে যায় আসল কাজ।

মাঠের ভেতরে ও বাইরে

ভক্তরা প্রায়ই যা বুঝতে পারেন না তা হলো, কিক-অফের কয়েক দিন আগেই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে যায় – কেবল খেলার নিয়মকানুন জানাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের শারীরিক কসরত, যেমন দীর্ঘ দৌড় এবং জিম ওয়ার্কআউটের পাশাপাশি রেফারিদের লেকচারে অংশ নিতে হয় এবং তারা যে দলগুলোর ম্যাচ পরিচালনা করবেন, তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা করতে হয়।

ফাভেরানি বলেন, ‘একটি দলের রক্ষণভাগের কৌশল এবং খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এই ইতালীয় রেফারি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলগুলোর আগের ম্যাচগুলোর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটেজ পর্যালোচনা করেছিলেন এবং সহকর্মীদের পরামর্শ নিয়েছিলেন যারা ইতোমধ্যে তাদের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, যাতে অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয়।

This play involving Germany defender Benedikt Höwedes and an offside call against Thomas Müller (not pictured) in the 2014 World Cup final was a "very difficult" decision referee Faverani tells CNN Sports.

সহকারী রেফারির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং ফাউল ও অসদাচরণের সংকেত দেওয়া। কোন খেলোয়াড়রা সহজে উত্তেজিত বা তর্কে জড়িয়ে পড়েন তা আগে থেকে জানা থাকার কারণে মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও ফাভেরানি ‘সামান্য হাসি’ দিয়ে নিজের মানসিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারতেন।

২০১৩ সালের পর্তুগাল ও সুইডেনের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচ ছিল এমনই এক পরীক্ষা। যেখানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতো দুজন আইকনিক ফরোয়ার্ড ছিলেন। দুজনেই তাদের অনমনীয় চরিত্র এবং স্বতন্ত্র খেলার শৈলীর জন্য পরিচিত।

ফাভেরানি সেই রাতে সহকারী রেফারি ছিলেন। তিনি বলেন, আক্রমণাত্মক প্যাটার্ন এবং রক্ষণভাগের লাইনের সাথে পরিচিতি তাকে খেলাটি ঘটার আগেই অনুমান করতে সাহায্য করেছিল।

এবং এত বড় তারকাদের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও রেফারিরা ব্যক্তিগত পরিচিতি থেকে দূরে থাকেন এবং ম্যাচেই মনোনিবেশ করেন। তিনি যোগ করেন, ‘যখন বাঁশি বাজে, তখন এটি কেবল ১১ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের খেলা, আর কিছু নয়।’

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তি নিয়ে এত বিতর্ক। এটি কেবল ২০১৮ সালে চালু হয়েছিল। এর আগে সমস্ত অপরাধ খালি চোখে, রিয়েল টাইমে বিচার করা হতো। কখনো কখনো সেই সিদ্ধান্তগুলোই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী হয়ে উঠত।

২০১৪ সালের ফাইনালের একটি ‘খুব কঠিন’ সিদ্ধান্ত এখনো তার মনে দাগ কেটে আছে। রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য অবস্থায় শেষের দিকে এগোচ্ছিল। দুপক্ষই ডেডলক ভাঙার মরিয়া চেষ্টা করছিল এবং জার্মানি একটি কর্নার পায়।

Referee Tori Penso during training for officials.

বলটি আর্জেন্টিনার জনাকীর্ণ পেনাল্টি বক্সে পাঠানো হলে বেনেডিক্ট হাওয়েডেস সবার ওপরে লাফিয়ে উঠে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন। বলটি পোস্টে লেগে মাঠে ফিরে আসে এবং জার্মান ফরোয়ার্ড থমাস মুলারের পায়ে পড়ে। কিন্তু সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে জার্মান ফরোয়ার্ড অফসাইড পজিশনে ছিলেন। ফাভেরানির মতে, মাত্র ১০ সেন্টিমিটারের (প্রায় চার ইঞ্চি) ব্যবধানে।

তিনি বললেন, ‘আমি পুরো মনোযোগী ছিলাম, তাই পতাকা তুললাম।’ জার্মান একটি পত্রিকা পরে কৌতুক করে যাকে ‘রোবো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ বলে আখ্যা দিয়েছিল, তার সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল।

তিন দশকের মাশুল

অপেশাদার লিগ থেকে বিশ্বকাপে পৌঁছাতে ফাভেরানি এবং লিন্ডবার্গের প্রায় ৩০ বছর সময় লেগেছে। তাদের এই যাত্রা বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছিল। যার মাশুল দিতে হয় বাড়িতে অপেক্ষায় থাকা পরিবারকে দেওয়া সময়ের ঘাটতি দিয়ে।

এবং এই পর্যায়ে পৌঁছানো কতটা কঠিন, তার পরিসংখ্যান খুবই স্পষ্ট। ফিফার আন্তর্জাতিক তালিকায় থাকা ৩,৭২৫ জন অফিশিয়ালের মধ্যে মাত্র ৪.৫% এই গ্রীষ্মে উত্তর আমেরিকায় আসতে পেরেছেন এবং তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন। তাদের পেছনে রয়ে গেছেন কখনো বিশ্বমঞ্চে পৌঁছাতে না পারা লাখ লাখ রেফারি।

রেফারিং পেশার অনিশ্চিত প্রকৃতির কারণে বেশিরভাগ রেফারিকে নিয়মিত অন্য চাকরি করতে হয়। কারণ ম্যাচ থাকলেই কেবল দায়িত্ব আসে এবং তা মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থায়ী হয়।

লিন্ডবার্গ তার বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সেই সময়ে আপনার একটি ফুল-টাইম চাকরি ছিল, নিজের ম্যাচ ছিল এবং অনুশীলন ছিল। আপনাকে কম-বেশি একটি বেছে নিতে হতো, এবং অনেকেই পরিবারের চেয়ে রেফারিংকে বেছে নিয়েছিলেন, যার মাশুল পরে দিতে হয়েছে।’

তিনি সিএনএনকে বলেন, তার অনন্য কাজের পরিস্থিতির কারণেই তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন অনুশীলন করতে পেরেছিলেন। তার কথা, ‘আমি নিজের কোম্পানি চালাতাম, তাই বিকেল তিনটায় বেরিয়ে যেতে পারতাম এবং স্বাভাবিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারতাম। এটি আমার জন্য একটি বিশাল সুবিধা ছিল।’

ম্যাচ-ফিট থাকার জন্য যে অগণিত ঘণ্টা তিনি ব্যয় করেছেন, তা আরেকটি চ্যালেঞ্জকে সামনে আনে। সেটা হলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের ধকল। খেলোয়াড়রা প্রায়শই রেফারিদের চেয়ে ১০ থেকে ২০ বছরের ছোট হন। যার ফলে তাদের গতির সাথে তাল মেলাতে রেফারিদের নিজেদের আরও বেশি উজাড় করে দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই খেলোয়াড়দের অনেক ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুশীলন করতে হয়, যা আমাদের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বয়সের কারণে আমরা তাদের চেয়ে অনেক বেশি শারীরিক কসরত করি।’

ফাভেরানির জন্যও এটি ছিল একটি আপস। শীর্ষ স্তরে রেফারিং করা কখনোই তার ক্রেডিট ম্যানেজার হিসেবে অফিসের চাকরিটির বিপকল্প হতে পারেনি। বরং এটি কাজের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সিজন চলাকালীন তিনি সপ্তাহের মাঝামাঝি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের জন্য এবং উইকএন্ডে সিরি আ ম্যাচের জন্য বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতেন এবং সেই সাথে ফোন ও ইমেইলের মাধ্যমে কোম্পানির ব্যবসা সামলাতেন।

তিনি আবেগে ভেসে বললেন, ‘এটি আমার জন্য একটি আবেগ। কিন্তু আমি এখন বুঝতে পারি যে আমি আমার পরিবার, স্ত্রী, মেয়ে ও মায়ের কাছ থেকে কতটা সময় কেড়ে নিয়েছিলাম।’

দুয়োধ্বনি এবং গালিগালাজ

প্রযুক্তি খেলাটিকে নতুন রূপ দিয়েছে। যার ফলে অফিশিয়ালদের মুহূর্তের সিদ্ধান্তগুলো এখন আরও কঠোর নজরদারির মধ্যে পড়ছে। ক্ষুব্ধ ভক্তদের মধ্যে যারা কেউ কেউ বাজি ধরেন, তাদের জন্য অনলাইন গালিগালাজ এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই অপব্যবহারের একটি প্রভাব পড়ছে। বিশ্বব্যাপী রেফারিংকে উৎসাহিত করা একটি অলাভজনক সংস্থা ‘রেফারি অ্যাব্রড’-এর প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল কার্সিও বলেন, রেফারিদের ওপর বিশ্বাসের অভাব নতুন বা উদীয়মান অফিশিয়ালদের এই পেশায় টিকে থাকার হার কমিয়ে দিচ্ছে।

VAR has increased scrutiny of officials at every level of the professional game, both at the club and international level.

তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয় যা এখন বিশ্বের প্রতিটি ফেডারেশনকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এখানে একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজন। একজন খেলোয়াড় যেমন পেনাল্টি মিস করতে পারে, তেমনি রেফারিও ভুল করতে পারেন। কিন্তু আপনাকে তাদের ওপর, তাদের নৈতিক চরিত্রের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।’

এফএইচএম