লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের ডাগআউটে তখন বিষাদের ছায়া। পায়ের পেশির চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৩৪ বছর বয়সী বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার চোখ বেয়ে ঝরছে জল। কিন্তু ম্যাচ শেষে নিজের কষ্ট ভুলে কোর্তোয়াকে দেখা গেল এক অন্য ভূমিকায়, তিনি জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন তারই তরুণ বদলি গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সকে। তার একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলেই মূলত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামকে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একটি দূরপাল্লার কিক নিতে গিয়ে পায়ে টান লাগে কোর্তোয়ার। শতভাগ ফিট না থাকায় ৭১তম মিনিটে কোচ রুডি গার্সিয়া তাকে তুলে ২১ বছর বয়সী সেনে ল্যামেন্সকে মাঠে নামান। কোর্তোয়া আরও কিছুক্ষণ খেলতে চাইলেও কোচের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেন।
কিন্তু ৮৬তম মিনিটে ঘটে সেই ট্র্যাজেডি। স্পেনের পাউ কুবার্সির নেওয়া একটি নিচু শট সঠিকভাবে তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন তরুণ ল্যামেন্স। তার হাত থেকে ফসকানো রিবাউন্ড বলে আলতো টোকা দিয়ে স্পেনের জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো।
ম্যাচ শেষে ল্যামেন্স যখন কান্নায় ভেঙে পড়েন, তখন বড় ভাইয়ের মতো তাকে আগলে নেন কোর্তোয়া। ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া বলেন, ‘আমি সেনেকে জড়িয়ে ধরেছি। আমি জানি গোলরক্ষকদের জন্য এটা কতটা খারাপ একটা অনুভূতি। কিন্তু সে একজন দারুণ গোলরক্ষক, এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ও আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।’
কোচ রুডি গার্সিয়াও ম্যাচ শেষে কোর্তোয়াকে হারানোকে বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তার মতো স্তম্ভকে ম্যাচ চলাকালীন হারানো দলের জন্য মারাত্মক ছিল। এই স্তরের দলের বিপক্ষে জিততে হলে ভাগ্যও পাশে থাকতে হয়, যা আজ আমাদের ছিল না।’
এমএমএম/

