নকআউট পর্বের অন্তিম মুহূর্তে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলাটা যেন এক অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন মিকেল মেরিনো। ইউরো ২০২৪ কিংবা ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পর কোয়ার্টার ফাইনালেও স্পেনের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন এই আর্সেনাল মিডফিল্ডার। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৮তম মিনিটে তার করা জয়সূচক গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন।
আগামী মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ডালাসে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে স্পেন মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপের হট ফেভারিট ফ্রান্সের।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে স্পেনের নেওয়া একটি শট ল্যামেন্সের হাত থেকে ফসকানোর পর বল লুফে নেন বদলি হিসেবে নামা ৩০ বছর বয়সী মেরিনো। ঠান্ডা মাথায় বল জালের ঠিকানায় পাঠিয়ে পুরো স্প্যানিশ শিবিরকে উল্লাসে ভাসান তিনি।
ম্যাচ শেষে নিজের মেরিনো বলেন, ‘আমি কিছু কাকতালীয় ঘটনা বিশ্বাস করি, তবে আজকের গোলটি মোটেও তেমন কিছু ছিল না। এর পেছনে রয়েছে আমার কঠোর প্রস্তুতি। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, মাঠে নামার পর আমি ভালো কিছু করতে পারব এবং আমার সুযোগ ঠিকই আসবে।’
ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল করাটা মিকেল মেরিনোর ট্রেডমার্কে পরিণত হয়েছে। এই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনি। তার আগে ইউরো ২০২৪ এর কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক জার্মানির বিপক্ষে ১১৯তম মিনিটে তার করা হেডের গোলেই টুর্নামেন্ট থেকে জার্মানি ছিটকে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়। ক্লাব ফুটবলেও আর্সেনালের হয়ে ডেডলক ভাঙতে এমন শেষ মুহূর্তের আক্রমণের জন্য তার বেশ সুনাম রয়েছে।
স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে মেরিনোর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘মেরিনোর মধ্যে অনেক গুণ রয়েছে। সে বিশ্বের যেকোনো ক্লাব বা জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা রাখে। আমাদের দল এবং খেলার শৈলীর সঙ্গে সে একদম নিখুঁতভাবে মানিয়ে যায়। আমরা জানি যে যখনই দলের তাকে প্রয়োজন হবে, সে সবসময় নিজেকে উজাড় করে দেবে।’
মেরিনোর এই দুর্দান্ত ফর্মের ওপর ভর করেই এবার ফরাসি দুর্গ ভাঙার ছক কষছে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন।
এমএমএম/

