রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে বিশ্বকাপে প্রত্যেক ম্যাচের মূল একাদশে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পাঁচ ম্যাচে তিন গোল করলেও নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন তিনি। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে জানিয়ে দেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে জানাননি, জাতীয় দলের জার্সি আর পরবেন কি না!
রোনালদো একে তো ফর্মে নেই, তার ওপর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার গুঞ্জনও উঠেছে। তাহলে কি তার পর্তুগাল ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফর্মে না থেকেও মার্তিনেজের প্রিয়ভাজন হয়ে একাদশে নিয়মিত ছিলেন। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তিনি বিদায় নিয়েছেন। নতুন কোচ হয়েছেন হোর্হে জেসুস। পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়ার পর সিআরসেভেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে দেরি করেননি।
আল নাসরের কোচ হওয়ার সুবাদে রোনালদোর সঙ্গে ভালো একটা বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে জেসুসের। সেটা কাজে লাগাতে চান তিনিও। ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড যদি খেলার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে তাকে দলে রাখবেন বললেন জেসুস। কখনোই তিনি দলের জন্য সমস্যা হবেন না জানিয়ে রাখলেন কোচ।
পরিচিত পর্বে জেসুস বললেন, ‘সে যতদিন খেলছে এবং খেলার মতো অবস্থায় থাকছে, ততদিন দলে জায়গা পাবে। আমি তাকে নেবো, তবে কিছু সীমার মধ্যে এবং জাতীয় দলের জন্য ভালো হয়, এমন কিছু শর্ত মেনে।’
৭১ বছর বয়সী কোচ বলেন, এখনো রোনালদোর সঙ্গে তার কথা হয়নি। তবে সাবেক ম্যানইউ ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করবেন। জেসুস বলেন, ‘ক্রিসের সঙ্গে এখনো কথা হয়নি আমার। জাতীয় দলের জন্য সে কখনো সমস্যা হবে না। জাতীয় দল নয়, এমনকি আমার জন্যও নয়।’
রোনালদোর প্রশংসা করে তিনি বলে গেলেন, ‘ক্রিস পর্তুগিজ ফুটবলের একটা প্রতীক। সে জাতীয় দলের প্রতীক.. ইতিহাসের পাতায় তিনি সেটা আজীবন থাকবেন। অতীতে তার সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পেয়েছিলাম, তার সঙ্গে কাজ করা সহজ। আমরা দুজন দুজনের সঙ্গে বসতে যাচ্ছি, সে তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে কী ভাবছে সেটা জানতে চাইব।’
জেসুস পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সঙ্গে আল নাসরে কাজ করেছেন। দলটিকে প্রথম সৌদি প্রো লিগ জেতানোর পর মে মাসে ক্লাব ছাড়েন তিনি। জেসুস যোগ করলেন, “আমি জানি (রোনালদো) আল নাসরে খেলে যেতে চায়। কারণ আপনারা জানেন, আমি তার সঙ্গে এক বছর ছিলাম। সে সবসময় বলত, ‘আমি আল নাসরে আমার ক্যারিয়ার শেষ করতে যাচ্ছি।’”
জেসুস ২০৩০ বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত চুক্তি করেছেন। ওইবার স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে পর্তুগালও যৌথভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে।
এফএইচএম
