বিশ্বকাপে কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছে না আর্লিং হালান্ডকে! নরওয়ের এই গোলমেশিন চার ম্যাচে ৭ গোল করেছেন। বিশেষ করে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার জোড়া গোলই নরওয়েকে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছে। ফলে আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ আটের লড়াইয়ে নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র যে হালান্ড, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক ব্র্যাড ফ্রিডেলের মতে, হালান্ডকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তার কাছে বল পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় মায়ামিতে শুরু হবে ইংল্যান্ড-নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল। ম্যাচের আগে ‘স্পোর্টবাইবেল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফ্রিডেল বলেন, 'আপনি শুধু হালান্ডকে মার্কিং করে থামাতে পারবেন না। কারণ সে এমনিতেই ম্যাচে খুব বেশি বল স্পর্শ করে না। মূল বিষয় হলো তার কাছে বলের জোগান সীমিত করা। যদি আপনি নরওয়ের উইঙ্গার কিংবা ফুল-ব্যাকদের সহজে ক্রস করতে দেন, তাহলে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদের পক্ষেও হালান্ডকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।'
ফ্রিডেলের চোখে নরওয়ের আক্রমণের আসল নিয়ন্ত্রক মার্টিন ওডেগার্ড। তাই ইংল্যান্ডের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত আর্সেনাল অধিনায়কের প্রভাব কমিয়ে দেওয়া।
তিনি বলেন, 'হালান্ডের কাছে বল পৌঁছানো বন্ধ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণে ওডেগার্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নরওয়ে দলে সবচেয়ে বেশি বল সে পায়। তবে এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, নরওয়ে কেবল একজন খেলোয়াড়নির্ভর দল নয়। আন্তোনিও নুসা, অস্কার ববের মতো আরও বিপজ্জনক ফুটবলার আছে তাদের।'
ওডেগার্ডের গুরুত্ব বোঝাতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রথমার্ধে তিনি ৫৩টি পাস দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ভুল ছিল মাত্র একটি। অর্থাৎ সামান্য সময় ও জায়গা পেলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন নরওয়ের অধিনায়ক।
নরওয়ের কোচ স্তালে সলবাকেনও ওডেগার্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে তিনি বলেন, 'সে আমাদের জন্য অমূল্য। সে কখনোই শুধু একজন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার নয়। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যে ম্যাচের প্রতিটি পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।'
এইচজেএস

