রেফারির ম্যাচ শেষের বাঁশি। কানসাস স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লাস। আর্জেন্টাইন দর্শকরা এমনিতেই উৎসব প্রিয়। এরপর কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আজকের আনন্দ একটু বেশি সময় নিয়েই হয়েছে। মেসি-মার্টিনেজরাও দর্শকদের সামনে গিয়ে উদযাপন করছেন। চার বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা। তাই একটু বাড়তি উন্মাদনা ও উদযাপন একটু স্বাভাবিকই। ২০১৮ সালে শেষ ষোলোতে বাদ পড়েছিল তারা।
আর্জেন্টিনা জিতলেও দাপুটে খেলা হয়নি। সুইজারল্যান্ডের খোলসে আবদ্ধ ছিল অনেক সময়। ৭২ মিনিটে সুইজারল্যান্ড দশ জনের দলে পরিণত হয়। এরপরও আর্জেন্টিনা গোল পেতে বেগ পায়। টাইব্রেকার যাওয়ার জন্য যখন অপেক্ষা, ঠিক তখনই আলভারেজের গোলে পরিত্রাণ আর্জেন্টিনার। কেপ ভার্দের পর আবারও অতিরিক্ত সময়ে আরেকটি নক আউট ম্যাচে জিতল মেসির আর্জেন্টিনা।
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামের প্রেসবক্স অনেক উঁচুতে। এতটাই উঁচু যে কানসাসের সড়কের গাড়ি চলাচলও দেখা যায়। আটটায় খেলা শুরু হলেও ফ্লাডলাইট জ্বলেছে দ্বিতীয়ার্ধে। তবে প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।
ম্যাচের দুই অর্ধে দুই চিত্র। প্রথমার্ধের দশ মিনিটেই আর্জেন্টিনার লিড। কর্নার থেকে ম্যাক অ্যালিস্টার লাফিয়ে হেড করে গোল করেন। শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ড বল দখলে রাখলেও গোলের পর আর্জেন্টিনা খেলায় গতি ফিরে পায়। সেই গতি অবশ্য আরেকটি গোলের জন্য যথেষ্ট নয়। সুইজারল্যান্ড বক্সের আশেপাশে বল রাখলেও গোলে তেমন আক্রমণ করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড ও সুইজারল্যান্ডের অধ্যায়। বল পজেশন ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। সুইজারল্যান্ড বল কন্ট্রোল ও আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে ভালোই কাঁপন ধরিয়েছিল। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ টানা কয়েকটি আক্রমণ একাই রুখে দেন। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডাররা সুইস আক্রমণ ঠেকাতে কাবু। ৬৭ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে বক্সে প্রবেশ করে এনদোয়ে মার্টিনেজের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান। সুইজারল্যান্ড এত আক্রমণ করছিল যে গোল পাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার।
খেলায় সমতা আসার পর সুইজারল্যান্ড আরও উজ্জ্বীবিত ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। মিনিট পাঁচেক পর লাল কার্ডের ঘটনা খেলার গতিপথ বদলে দেয়। আর্জেন্টিনার অর্ধে একটি ট্যাকেলে রেফারি আর্জেন্টাইন ফুটবলারকে কার্ড দেখান। ভিডিও সহকারী রেফারি সঠিক খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেন রেফারিকে। ওই ঘটনা পুনরায় দেখা যায় সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার এম্বোলো পাশ থেকে ট্যাকেল এবং আঘাত করে অভিনয় করেন। তার আগে হলুদ কার্ড ছিল। রেফারি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখালে মাঠ ছাড়তে হয়। এতে সুইজারল্যান্ড ভেঙে পড়ে।
আর্জেন্টিনা দশ জনের বিপক্ষেও তেমন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। সুইজারল্যান্ড বক্সে বল দেওয়া নেওয়া করলেও গোল করতে পারেনি। মেসি ছাড়া সুইস ডিফেন্ডারদের ভেদ করে বক্সে ঢোকার প্রবণতা তেমন দেখা যায়নি। তিনি বক্সের বাইরে থেকে কয়েকটি শট নিয়েছেন। সেগুলো কখনো গোলরক্ষক, আবার কখনো পোস্টের আশপাশ দিয়ে যায়। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সুইজারল্যান্ড দশ জন নিয়েও আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধও রুখে দেয়। এই অর্ধেও আর্জেন্টিনা শুধু বক্সের বাইরেই বল নিয়ে সময় কাটিয়েছে। সুইজারল্যান্ড কাউন্টার অ্যাটাকে গোলের চেষ্টা করলেও সেটা খুব যথার্থ ছিল না। লিওনেল স্কালোনি খেলোয়াড় দুই দফা বদল করেও ম্যাচের ফল না আসায় খানিকটা চিন্তিত ছিলেন।
১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে গোল করে আর্জেন্টানইন সমর্থকদের হাঁপ ছেড়ে বাঁচান। ওই গোলের পর সুইজারল্যান্ড খানিকটা ভেঙে পড়ে। মিনিট কয়েক পরে লাউতারো মার্টিনেজ বক্সের মধ্যে প্রবেশ করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করলে আর্জেন্টিনার জয় সুনিশ্চিত হয়।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। নক আউট পর্বে তিন ম্যাচেই অত্যন্ত কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে। বিশেষ করে আজকের ম্যাচে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ ছাড়া একেবারে নিষ্প্রভই ছিল।
এজেড/এফএইচএম

