সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে এই জয় তাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ৭২ মিনিটে সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হলেও আর্জেন্টিনা ৯০ মিনিটের মাঝে সেই সুবিধা নিতে পারেনি। তারা ১-১ সমতা ভেঙেছে ১১২ মিনিটে। ম্যাচ শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি ‘ভাগ্যের সহায়তায় জয় ও ইতিহাস’ গড়ার কথা জানিয়েছেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্কোরলাইন সমতায় থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ ও ১২০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। শিষ্যদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা কষ্ট করেছি, কিন্তু আবারও যা অর্জন করেছি তা ইতিহাস।’
এর আগে ২০১৪ সালেও নকআউট পর্বে দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ডের। সেই ম্যাচও ৯০ মিনিটে ১-১ সমতার পর খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। আনহেল ডি মারিয়ার গোলে সেই ম্যাচ জেতে আর্জেন্টিনা। আরও একবার নকআউটে দুই দলের ফল নিষ্পত্তি হলো অতিরিক্ত সময়ে। এ ছাড়া বিশ্বকাপে এ নিয়ে ১৩ বার অতিরিক্ত সময়ে গিয়েছে আর্জেন্টিনার ম্যাচ, এর মধ্যে ১১ বারই তারা জয় পেয়েছে।
১২০ মিনিটের লড়াই নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আজ আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমরা জানতাম, তারা খুবই শারীরিক শক্তিনির্ভর একটি দল। তারা আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল এবং আমরা কোনো কোনো পরিস্থিতিতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। ভাগ্যও আমাদের পক্ষে ছিল, কারণ তাদের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ে। এরপর দল আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।’
তবে সেমিফাইনালের আগে নিজেদের উন্নতির প্রয়োজন দেখছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কোচ, ‘আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে, উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। তবে জয় নিয়ে সেই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা সব সময়ই ভালো।’ ম্যাচ বিশ্লেষণের বাইরে গিয়েও আর্জেন্টিনার আরেকটি ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন স্কালোনি। টানা আরেকবার বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম, কিন্তু এই দল যা অর্জন করেছে তা ঐতিহাসিক। আবারও সেমিফাইনালে ওঠা নিঃসন্দেহে ইতিহাস।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আগামী বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ যে–ই আসুক তাদের প্রশংসা করে নিজেদের শক্তি ফিরে পাওয়ার দিকে মনোযোগী স্কালোনি, ‘প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হোক বা নরওয়ে, তা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা এমন একটি দলের মুখোমুখি হব, যারা খুব ভালো ফুটবল খেলে এবং যাদের একজন অসাধারণ কোচ আছেন। এখন আমাদের শক্তি ফিরে পাওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে সেটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’
এএইচএস

