প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো ভিএআর রিভিউয়ের পর মাঠছাড়া হলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখা গেল ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ লাল কার্ড।
প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মিসটেকেন আইডেন্টিটির জন্য শাস্তি পেলেন এম্বোলো। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ভিএআর এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝাড়েন সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাট ইয়াকিন, ‘খেলাটা আমাদের কাছ থেকে এভাবে ছিনিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যা ঘটেছে, রেফারি যা করেছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ওই নিয়মটা পুরো ম্যাচটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি আবারও বলছি, ওই হলুদ কার্ড দেওয়ার মতো কোনো কারণই ছিল না। খেলাটা চলতে দেওয়া উচিত ছিল, ব্যস।’
এর শুরুটা হয়েছিল এম্বোলোকে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করা থেকে। তাকে একটি হলুদ কার্ড দেন রেফারি। কিন্তু ৭১তম মিনিটে সিদ্ধান্তটি রিভিউ করেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)।
খেলা আবার শুরু হয়েছিল। কিন্তু আবার থেমে যায়। ভিএআর রিভিউ কল করা হয়। সিদ্ধান্তটি কেবল পাল্টেই যায়নি। কিন্তু এম্বোলোকে মিসটেকেন আইডেন্টিটির জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ম্যাচ রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনহেইরো তাকে লাল কার্ড দেখান।
এম্বোলোকে কেন ভিএআর মিসটেকেন আইডেন্টিটি হলুদ কার্ড দেখানো হলো?
পারেদেসের ট্যাকেলের সময় ২৯ বছর বয়সী এম্বোলো ডাইভ দিয়ে পড়ে যান। অনফিল্ড রেফারি ইচ্ছাকৃত পড়ে যাওয়াটা খেয়াল করেননি। আর্জেন্টাইনকে ফাউলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

কিন্তু দূর থেকে কাজ করা ভিএআর টিম ঘটনাটি দেখে রিভিউ কল করেন। রিপ্লে দেখেন রেফারি এবং ভিএআর টিমের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারপর মাঠে ফিরে পারেদেসের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করেন এবং এম্বোলোকে হলুদ কার্ড দেন। আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড তার নামের পাশে ছিল। তাতে করে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
সুইস খেলোয়াড়রা ও বেঞ্চের সদস্যরা রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালেও লাভ হয়নি। তারা এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ঝারেন। তবে নিরপেক্ষ চোখে দেখে থাকা অনেকেই বলেছেন, সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল। এম্বোলো কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাকে সান্ত্বনা দেন সতীর্থরা।
মিসটেকেন আইডেন্টিটি ডিসিশন কী?
ফুটবলের নিয়মকানুন পরিচালনাকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর বিষয়টিকে একটি ‘ম্যাচ পরিবর্তনকারী’ ভুল হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ হয় তখনই, ‘যখন রেফারি কোনো হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, কিন্তু সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য স্পষ্টভাবেই উভয় দলের কোনো একটির ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেন।’
খেলার নতুন ভিএআর নিয়ম অনুযায়ী, এই ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণের মতো সমস্যাগুলো ভিএআর টিম ধরে ফেলতে এবং তা পর্যালোচনা করতে পারে।
এফএইচএম

