World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

অবশেষে থামল ‘গোলমেশিন’, ৬৩৬ দিন পর এমন দিন দেখলেন হালান্ড

অবশেষে থামল ‘গোলমেশিন’, ৬৩৬ দিন পর এমন দিন দেখলেন হালান্ড

ক্লাবের পর জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজেকে রীতিমতো ‘গোলমেশিন’-এ পরিণত করেছিলেন আর্লিং হালান্ড। ১৪ ম্যাচে করেছিলেন ২৭ গোল। এবারের বিশ্বকাপেও ৭ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে ছিলেন। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার ছন্দে ব্যাঘাত ঘটল, ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিলো নরওয়েও। ৬৩৬ আগে তিনি সর্বশেষ জাতীয় দলের জার্সিতে গোলশূন্য ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল পাননি নরওয়েজিয়ান তারকা হালান্ড। এরপর গতকাল দিবাগত রাতে ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে যতবারই তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে নেমেছেন, করেছেন ন্যূনতম এক গোল। ১৪ ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ২৭ বার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান ২৫ বছর বয়সী এই ম্যানচেস্টার সিটির তারকা। ১৫তম ম্যাচ এবং ৬৩৬ দিন পর হালান্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল ছাড়াই মাঠ ছেড়েছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। ম্যাচের বড় একটি সময় তিনি কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। দক্ষিণ ফ্লোরিডার প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার ধকলও তার ওপর ছিল স্পষ্ট। অতিরিক্ত সময়ের শেষ ১৫ মিনিট বাকি থাকতেই, যখন নরওয়ের আশা তখনও টিকে ছিল, তখন তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ স্টালে সোলবাক্কেন। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। 

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা হালান্ডের জন্য আসরের এটাই প্রথম কোনো ম্যাচ, যেখানে তিনি গোল করতে পারেননি। এর আগে চার ম্যাচে তিনি করেছিলেন সাতটি গোল। কিন্তু এদিন সেই সংখ্যাটা বাড়িয়ে নেওয়ার মতো সুযোগই খুব একটা পাননি। নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক যাত্রা। ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেশি অনুভূত তাপমাত্রায় খেলা যত এগিয়েছে, ততই শক্তি ফুরিয়ে গেছে।

নরওয়ের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখার যথেষ্ট সময় থাকলেও, হালান্ডকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে কোচ সোলবাক্কেন বলেন, ‘তাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন ছিল না। সে পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। হয়তো আরও ১০ মিনিট আগেই তাকে তুলে নেওয়া উচিত ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে তার পায়েও আঘাত লাগে। সেই চোট আর ক্লান্তি মিলিয়েই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। তবে সে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছে।’

ব্রাজিলকে শেষ ষোলোতেই বিদায় করে ইতিহাস গড়েছিল নরওয়ে। বিশ্বকাপে এটাই তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। বিদায়ের পরেও তাই গর্বিত হালান্ড, ‘সত্যি বলতে আমার মনে হয় এই বিশ্বকাপ আমার জীবনই বদলে দিয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা নরওয়েকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে তুলে ধরতে পেরেছি।’

হালান্ডকে নিয়ে ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা ছিল একেবারেই পরিষ্কার। ম্যানচেস্টার সিটিতে হালান্ডের সতীর্থ এবং ক্লাব পর্যায়ে তার বিপক্ষে খেলা ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা ঠিক করেছিল– হালান্ডকে যেন বলই না দেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা অনেকটাই সফল হয়। ম্যাচে হালান্ড মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছেন, যার একটি ছিল লক্ষ্যে। প্রথমার্ধের পর তাকে কার্যত নিস্তেজ করে রাখে ইংল্যান্ডের রক্ষণ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ২-অন-১ আক্রমণে একটি পাস ঠিকমতো তার কাছে পৌঁছায়নি। সেটি পৌঁছালে হয়তো তিনি গোলের সেরা সুযোগ পেয়ে যেতেন।

এএইচএস