বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের গোলে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। তবে ম্যাচ শেষেও নরওয়ে স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলোথের একটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করা নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। অনেকের ধারণা, সহজ ওই সুযোগ মিসই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছে ভাইকিংসদের।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আর্লিং হালান্ডকে পাস না দিয়ে আলেকজান্ডার সরলোথ নিজে গোল করতে যাওয়ার সেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। নিশ্চিত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়ার সেই মুহূর্তটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
— Geronimo Morgans (@GeronimoMorgans) July 12, 2026
ম্যাচ শেষে নিজের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা নরওয়ে ম্যাচের ৪৪ মিনিটে আরও একটি গোলের সুবর্ণ সুযোগ পায়। মার্টিন ওডেগার্ডের চমৎকার একটি রক্ষণভেদী পাস থেকে বল পেয়ে যান সরলোথ। গতি বাড়িয়ে তিনি যখন ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে ঢোকেন, তখন সামনে ছিলেন কেবল ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোন্স। অন্যদিকে সম্পূর্ণ ফাঁকায় দাঁড়িয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড।
— Footballnus (@footballnus) July 12, 2026
যে কোনো সাধারণ দর্শকও সেখানে হালান্ডকে একটি পাস দেওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সরলোথ গতি কমিয়ে নিজেই স্টোন্সকে কাটানোর চেষ্টা করেন। তার নেওয়া শটটি ব্লকড হয়ে সহজেই জমা পড়ে ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের গ্লাভসে।
অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে নরওয়ের হারের পর সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ও বিবিসি পণ্ডিত অ্যালান শিয়ারার সরলোথের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড আবারও ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেল। সরলোথের উচিত ছিল আরও অনেক আগেই দ্রুত গতিতে হালান্ডকে পাস দেওয়া। সে তা না করার সিদ্ধান্ত নিল, আর এরপর সামনে যাওয়ার আর কোনো পথই খোলা ছিল না। সে সরাসরি ডিফেন্ডারদের ভিড়ের ভেতর ঢুকে পড়েছিল।’
— Iván (@IvaanBlanco26) July 11, 2026
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সরলোথ সেই মুহূর্তের মানসিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার ব্যাখ্যা করে বলেন, আমি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যখন মাথা তুলে তাকালাম, দেখলাম স্টোন্স পাসের লাইনটা বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর আমি আরও একটা টাচ নিলাম, যা একদমই ঠিক হয়নি। আমি নিজে কোনো মুভ করে ওকে বিভ্রান্ত করার চেয়ে, ও কী মুভ করে, সেটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই পরিস্থিতিতে তার মূল উদ্দেশ্যই ছিল হালান্ডকে খুঁজে নেওয়া, কিন্তু তার মনে হয়েছিল পাস দেওয়ার সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে গেছে। সরলোথ আরও যোগ করেন, ‘ওই পরিস্থিতিতে আমার একমাত্র চাওয়া ছিল আর্লিংকে (হালান্ড) পাস দেওয়া। কিন্তু একপর্যায়ে মনে হলো পাসের রাস্তাটি আর নেই, তাই নিজেই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে। নরওয়ের কোচ স্টেল সলবাকেনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ক্লান্তি কি সরলোথের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল? কোচ বলেন, ‘আপনি যদি বিশ্লেষণ করেন, তবে দেখতে পাবেন সে প্রায় ৪০-৫০ মিটার পূর্ণ গতিতে দৌড়েছিল। এরপর সে হালান্ডকে পাস দেওয়ার সঠিক মুহূর্তটি খুঁজছিল, কিন্তু তা পায়নি।’ তবে আবহাওয়ার অজুহাত দিতে রাজি নন কোচ, ‘২-০ করার দারুণ সুযোগ ছিল। ফুটবলে এগুলো খুব সূক্ষ্ম ব্যবধানের খেলা। এখানে গরমকে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না।’
প্রসঙ্গত, ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিলেও এবারের বিশ্বকাপ নরওয়ে ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে থাকবে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাফল্য। এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে খেলাই ছিল তাদের সেরা অর্জন।
ব্যক্তিগতভাবে আর্লিং হালান্ড টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ৭ গোল নিয়ে, যা তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের (উভয়েই ৮ গোল) ঠিক পেছনে রেখেছে।
এফআই

