কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নরওয়ের সমর্থকরা। ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারির বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ম্যাচ শেষেই সেই ক্ষোভে ঘি ঢালেন নরওয়েজিয়ান তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের বাবা আলফি হালান্ড। রেফারিকে ধুয়ে দিয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ম্যাচটিতে তাদের ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে। অবশ্য তার এমন মন্তব্যের বিপরীতে তোপ দেগেছেন সাবেক ইংলিশ ফুটবলাররা।
শনিবারের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় নরওয়ে। ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। তবে ম্যাচটি বেশি আলোচনায় এসেছে রেফারির কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আলফি হালান্ড বলেন, ‘রেফারি এসে ওদের বাঁচিয়ে দিল। আমি আশা করি ওরা বিশ্বকাপ জিতুক, কিন্তু আমার আজ মনে হয়েছে আমাদের পকেট কাটা (ডাকাতি করা) হয়েছে।’
ম্যাচের ৪৭ মিনিটে (৪৫+২ মিনিট) ইংল্যান্ড যখন ১-১ সমতা ফেরায়, সেই গোলের বিল্ড-আপ বা উৎস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। ‘ফক্স স্পোর্টস’-এর ক্যামেরায় দেখা যায়, বলটি আকাশে থাকা ‘স্কাই ক্যাম’-এর (ওভারহেড ক্যামেরা) কেবলে বা তারে লেগে দিক পরিবর্তন করেছিল। এই ঘটনাটি রেফারি এড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন নরওয়ের সমর্থকসহ হালান্ডের বাবা।

তবে বিতর্ক জলঘোলা হওয়ার আগেই এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও সংযুক্ত করে ফিফা জানায়, ৪৫+২ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলের আগে বলটি যখন শূন্যে ছিল, তখন বলের ভেতরের সেন্সরে (বলস হার্টবিট) কোনো ধরনের ঝাঁকুনি বা স্পাইক ধরা পড়েনি। ফলে বলটি ওভারহেড কেবলে লেগে গতিপথ পরিবর্তন করেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
‘মদ খেয়ে ম্যাচ দেখলে এমনই মনে হবে’
রেফারির বিরুদ্ধে আর্লিং হালান্ডের বাবা আলফি হালান্ডের ‘ডাকাতি’র অভিযোগের জবাবে পাল্টা তোপ দেগেছেন কিংবদন্তি ফুটবলার ও পণ্ডিত রয় কিন, ইয়ান রাইট ও গ্যারি নেভিল। স্কাই বেটের ‘স্টিক টু ফুটবল’ পডকাস্টে তারা নরওয়ে শিবিরের এই অজুহাতকে ধুয়ে দিয়েছেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক আইরিশ কিংবদন্তি রয় কিন স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে ছাড়েননি আলফি হালান্ডকে। হালান্ডের বাবার ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে মদ্যপানের অভ্যাসের দিকে ইঙ্গিত করে কিন বলেন,‘ম্যাচের কথা ওনার (আলফি হালান্ড) ঠিকঠাক মনে আছে তো? কারণ ম্যাচের সময় ওনাকে তো প্রায়ই মদ খেতে দেখা যায়। আপনি যদি ড্রিংকস করে খেলা দেখেন, তবে মাঠে যা ঘটছে তা আপনার কাছে অন্যরকমই মনে হবে!’
ছোটখাটো কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিন অবশ্য কিছুটা সুর নরম করে বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছু ৫০-৫০ সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে গেছে, যা ম্যাচে হতেই পারে। তবে রেফারি নরওয়ের ক্ষতি করেছে—এমনটা আমি একদমই বলব না। হালান্ডের ফাউলটা পরিষ্কার ফাউলই ছিল।’
আর্সেনাল কিংবদন্তি ইয়ান রাইট হালান্ডের বাবার এই অভিযোগকে ‘আঙুর ফল টক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। হালান্ডের গোল বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেখানে হলান্ড প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে যেভাবে ধাক্কা দিয়েছিল, তা রীতিমতো হাস্যকর। ও এমনিতেই ৬-৭ ইঞ্চি লম্বা, সেখানে এত আগ্রাসী হওয়ার কী দরকার ছিল? ওটা নিশ্চিত ফাউল ছিল। এটা নিয়ে কথা বলাই বোকামি।’
এফআই

