চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলার পথে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন জুড বেলিংহ্যাম। দলের অন্যতম সেরা গোলদাতাও তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডারকে দেখে ফরাসি কিংবদন্তির ছায়া খুঁজে পাচ্ছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক জন টেরি।
মিডফিল্ডার হয়েও এবারের বিশ্বকাপে ছয় গোল করেছেন বেলিংহ্যাম। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকা এই ইংলিশ তারকা শুধু গোলই করছেন না, আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। মাঠজুড়ে তার প্রভাব এতটাই বেশি যে অনেকের চোখে তিনি এখন গোল্ডেন বলেরও অন্যতম দাবিদার।
ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপে ছয় গোল করা প্রথম মিডফিল্ডারের কীর্তি গড়েছেন বেলিংহ্যাম। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করা প্রথম খেলোয়াড়ও তিনি। শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে ৩-২ ব্যবধানে দলকে জেতান, এরপর কোয়ার্টার-ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ জয়ের দুই গোলই আসে তার পা থেকে।
ফিফা পডকাস্টে টেরি বলেন, বেলিংহ্যামকে দেখলেই জিদানের কথা মনে পড়ে যায় তার, 'বিশ্বকাপের শুরুতেই বলেছিলাম, সে আমাকে জিদানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই মুহূর্তে সে একাই দলটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে সে বিশ্বমানের ফুটবলার। মাঠের বাইরেও তার মধ্যে দারুণ স্থিরতা আছে।'
টেরির সঙ্গে একমত ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জিলবার্তো সিলভাও। তার মতে, বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার যে মানসিকতা প্রয়োজন, বেলিংহ্যাম সেটি ধারাবাহিকভাবে দেখিয়ে যাচ্ছেন, 'বড় ম্যাচে তারকাদের এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিতে হয়। গত দুই বছর ধরে সে সেটাই করছে—প্রথমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে, এখন বিশ্বকাপে। তার মধ্যে জিদানের মতো অনেক গুণ দেখা যায়। জন টেরির তুলনাটা যথার্থ।'
তবে বেলিংহ্যামের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু টেরি আত্মবিশ্বাসী। তার বিশ্বাস, এই ইংল্যান্ড দলটির ভাগ্যও যেন এবার তাদের পক্ষেই কথা বলছে।
তিনি বলেন, 'সত্যি বলতে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। তাদেরকে আমাদের চেয়ে ভালো মনে করি না। খেলোয়াড়ে-খেলোয়াড়ে তুলনা করলে আমরা এগিয়ে আছি। সবচেয়ে ভালো লাগছে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো আমরা নিজেদের পক্ষে নিতে পারছি। মনে হচ্ছে, এবার সময়টা ইংল্যান্ডের।'
এইচজেএস
