বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সুশৃঙ্খলভাবে আক্রমণে ওঠার খ্যাতি রয়েছে স্পেনের। তবে ফ্রান্সও তাদের সামনে আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন কোচ দিদিয়ের দেশম। বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি কোচের মতে, স্পেন যতই চাপ প্রয়োগ করুক না কেন, ফরাসিরাও পজেশনে দাপট দেখাতে চাইবে। ফলে দ্বৈরথ নির্ভর করছে দুই দলের মিডফিল্ডারদের সঙ্গে রক্ষণ ও ফরোয়ার্ডরা কতটা সমন্বয় করতে পারে তার ওপর।
আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে লড়বে ফ্রান্স-স্পেন। এ ম্যাচের আগে ফরাসিদের অনুশীলনে ছিলেন না অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তবে মূল ম্যাচে তিনি যথারীতি শুরু থেকে খেলবেন বলে জানা গেছে। একইভাবে চোটের অস্বস্তিতে গত দুই ম্যাচ বেঞ্চে কাটানো মিডফিল্ডার অঁরেলিয়ে চুয়ামেনিও মাঠে নামতে প্রস্তুত।
যদিও রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি বলে জানিয়েছেন ফরাসি কোচ দেশম, ‘গত ম্যাচে (তাকে খেলানো) অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আজ সে তুলনামূলক ভালো আছে, যদিও এখনও তাকে আমরা পুরোপুরি ফিট বলতে পারছি না। দুই সপ্তাহ আগে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে সে, এটি তাকে বাইরে রাখবে এমন নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সে খেলতে পারবে।’
চুয়ামেনির উপস্থিতি নিঃসন্দেহে ফ্রান্সের মিডফিল্ডে গভীরতা বাড়াবে। যা সহায়তা করবে স্পেনের ক্রমাগত প্রেসিংয়ের মুখে। তরুণ মিডফিল্ডার ওয়ারেন জাইরে-এমেরিও ক্লাব ও জাতীয় দলে নিজের সামর্থ্যের সাক্ষ্য রেখেছেন। অভিষেক হয়েছে বিশ্বকাপেও। আক্রমণাত্মক ফরোয়ার্ড লাইনআপ নিয়ে ফ্রান্স কোচ বলছেন, ‘স্পেন বল নিয়ন্ত্রণে বেশ দক্ষ। আমাদেরও দ্রুত কাউন্টার আক্রমণে যাওয়ার গুণ রয়েছে, পজেশন রাখা এবং ডিফেন্সেও ভালো। খেলার গতিপ্রকৃতিই সবকিছু নির্ধারণ করবে। ম্যাচটি ঠিক কীভাবে এগোবে, তা আমি এখনই বলতে পারছি না।’
যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৮টি গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে আছেন এমবাপে। তবে মহারণী সেমিফাইনালের আগে অনুশীলনে দেখা যায়নি এমবাপেকে। মরক্কো ম্যাচে তার অ্যাঙ্কলে হালকা চোট ছিল। সেটাই গুরুতর আকারে রয়েছে কি না সেই শঙ্কা তৈরি হয়। তবে ফ্রান্স কোচ সেই শঙ্কা উড়িয়ে বলছেন, ‘কিলিয়ান ঠিক আছে। সে অনুশীলনও করেছে। ২০ মিনিটের পরিবর্তে তাকে ১০ মিনিটের ড্রিল সেশনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’
২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ছিটকে গিয়েছিল ফ্রান্স। বারবারই সেই প্রসঙ্গ আসছে। এ নিয়ে ফরাসি কোচ দেশম বলছেন, ‘এ থেকে বিশেষ কোনো শিক্ষা নেওয়ার কিছু নেই। সে সময় উভয় দলের পারফরম্যান্সই পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল। এখনকার খেলোয়াড়রা আলাদা এবং তাদের ফর্মও যে আগের মতোই আছে তা কিন্তু নয়। স্পেন সেই দুটি ম্যাচ জিতেছিল, তাই তাদের অভিনন্দন। তবে আমার কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামীকালকের ম্যাচটি।’
এএইচএস

