ম্যাচের সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। শেষ বাঁশি বাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন রেফারি। এই মুহূর্তে গোল দরকার? স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তের ‘ম্যাজিক ম্যান’ মিকেল মেরিনো আছে তো! চলমান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ দুই ম্যাচের দুটিতেই স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের শেষ সময়ের গোলে জয় পেয়েছে ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে জয়সূচক একমাত্র গোল কিংবা কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়—দুটি ম্যাচেই ‘লা রোজা’দের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন মিকেল মেরিনো।
অবাক করা তথ্য হচ্ছে, দুটি ম্যাচেই মাঠে ছিলেন মাত্র কয়েক মিনিট (যথাক্রমে পাঁচ ও চার মিনিট)। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে দলের ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন তিনি। তাকে নিয়ে ফুটবল বিশ্ব এখন চর্চায়।
গত তিন মৌসুমে রিয়াল সোসিয়েদাদ (২০২৩-২৪) ও আর্সেনালের হয়ে ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চ মিলিয়ে ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর ১২টি গোল করেছেন এই মিডফিল্ডার। মোট গোলের হিসেবে হ্যারি কেইনের রেকর্ড ২৮ গোল থেকে (কিলিয়ান এমবাপে ২৬ গোল নিয়ে ঠিক পরেই আছেন) কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও একজন মিডফিল্ডারের জন্য তা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো পরিসংখ্যান।

ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর মেরিনোর ১২ গোলের মধ্যে ৮টিই সরাসরি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। যা দলকে সমতায় ফিরিয়েছে কিংবা এনে দিয়েছে মহামূল্যবান জয়। সর্বশেষ বেলজিয়ামের বিপক্ষে মেরিনোর সেই চিরচেনা রূপ আবার দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। ‘সুপার-সাব’ হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একবার রূপকথা লিখেছেন এই স্প্যানিশ তারকা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের গোল করার হারের দিক থেকে কেইনের (৩৬%) চেয়ে মেরিনো অনেক এগিয়ে, তার শতকরা হার ৭৫%!
গত সেপ্টেম্বরে নিউক্যাসলের বিপক্ষে গানার্সদের ২-১ ব্যবধানের জয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে লেস্টার সিটির বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার। আর স্পেনের ফুটবলপ্রেমীদের মনে ২০২৪ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালের সেই মুহূর্তটি আজীবন গেঁথে থাকার কথা, যেখানে ১১৯তম মিনিটে তার করা দুর্দান্ত গোলেই জার্মানির বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্পেন।
শেষ মুহূর্তে মেরিনোর ভাগ্যনির্ধারক গোলসমূহ
রিয়াল সোসিয়েদাদ বনাম মায়োর্কা (২০২৪): ৯৩ মিনিটে গোল (ম্যাচের ফল ২-১)
স্পেন বনাম জার্মানি (২০২৪): ১১৯ মিনিটে গোল (ম্যাচের ফল ২-১)
আর্সেনাল বনাম লেস্টার (২০২৫): ৮৭ মিনিটে গোল (ম্যাচের ফল ২-০)
স্পেন বনাম নেদারল্যান্ডস (২০২৫): ৯৩ মিনিটে গোল (ম্যাচের ফল ২-২)
আর্সেনাল বনাম নিউক্যাসল (২০২৫): ৮৪ মিনিটে গোল (ম্যাচের ফল ২-০)
আর্সেনাল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (২০২৬): ৮৪ মিনিটে গোল (ম্যাচের ফল ২-৩)
স্পেন বনাম পর্তুগাল (২০২৬ বিশ্বকাপ): ৯১ মিনিটে গোল (ম্যাচের ফল ১-০)
স্পেন বনাম পর্তুগাল (২০২৬ বিশ্বকাপ): ৮৮ মিনিটে গোল (ম্যাচের ফল ২-১)
মেরিনোর ক্যারিয়ারের মোট ৩৫টি গোলের ১২টি এসেছে একদম শেষ মুহূর্তে। অর্থাৎ মেরিনো তার মোট গোলের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৪.৩%) করেছেন ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কমপক্ষে ৩০টি গোল করা খেলোয়াড়দের মধ্যে শেষ মুহূর্তে গোল করার দিক থেকে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ হার। আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের দ্বৈরথেও বড় ভূমিকা থাকতে পারে তার।
এফআই

