লাল কার্ড দেখার পর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হওয়ার কথা ছিল ফোলারিন বালোগানের। কিন্তু ফিফার সিদ্ধান্তে সেই শাস্তি স্থগিত হওয়ায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ড। তবুও শান্তিতে থাকতে পারেননি তিনি। বরং পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও বাইরের চাপই তাকে বেশি ভুগিয়েছে।
বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলের জয়ে তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে পা লাগার ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী, এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হওয়ার কথা ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। এরপর ফিফা এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের শর্তে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে খেলার সুযোগ পান তিনি।
ঘটনার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন বালোগান। সিবিএস মর্নিংসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, দলে ফিরতে পেরে আমি খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু পরে যখন বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করি, বুঝতে পারি এটি অনেক বিতর্ক তৈরি করবে।’
তিনি বলেন, ‘সতীর্থদের মধ্যেও কিছুটা অস্বস্তি ছিল, কারণ এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। ম্যাচ যত ঘনিয়ে এসেছে, আমি শুধু খেলায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাইরের এত আলোচনা-সমালোচনা ছিল যে তা এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
লাল কার্ড দেখার পর বালোগান ধরে নিয়েছিলেন পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না। পরে টিম বাসে থাকাকালীন জানতে পারেন তিনি খেলতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘খবরটা পাওয়ার পর সবাই চিৎকার করে উঠেছিল। এই খবর শুনে অনুশীলন মাঠে যাওয়ার সময় বেশ আনন্দ-উৎসব করছিলাম।’
তবে বিতর্কের মধ্যেই মাঠে ফিরেও সাফল্য পাননি বালোগান। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচটিতে নিজের ছাপ রাখতে পারেননি তিনি। যদিও পুরো টুর্নামেন্টে তিন গোল করে দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন এই স্ট্রাইকার।
আইএইচ

