ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের বিতর্ক ও আবেগকে দূরে রেখে ফুটবলে মনোযোগী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ও মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। তবে এমন ম্যাচকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখতে রাজি নন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ম্যারাডোনা জুনিয়র। তার মতে, ‘বাবা কখনোই ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলাকে অন্য ম্যাচের মতো স্বাভাবিকভাবে নিতেন না।’
ম্যারাডোনা জুনিয়র মূলত ইংল্যান্ড ম্যাচের নেপথ্য উত্তেজনা হিসেবে ১৯৮২ সালের এপ্রিলে সংঘটিত ফকল্যান্ড যুদ্ধের কথা স্মরণ করেছেন। যে দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা ৭৪ দিনের একটি যুদ্ধে জড়িয়েছিল। সেই যুদ্ধে ৯০৭ জন মানুষ নিহত হন। এর ঠিক চার বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় দুই দেশ। যেখানে ম্যারাডোনার বহুল আলোচিত দুই গোলে ভর করে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ইংলিশদের হারায়।

বিশ্বকাপজয়ী সেই আসরের স্মৃতি হাতড়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’কে ম্যারাডোনা-পুত্র বলেন, ‘সব আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা-ভক্তদের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। এই ম্যাচ ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং সেখানে আমাদের প্রাণ হারানো ভাইদের কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি স্মরণ করায় ১৯৮৬ সালে আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল সেসব স্মৃতি। আমার বাবা সেবার একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছিলেন। এরপর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ম্যাচই আর স্বাভাবিক থাকেনি।’
স্কালোনি-ডি পলরা যতই মাঠের বাইরের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করুন না কেন, ম্যারাডোনা জুনিয়র যেন সেই আগুন তাতিয়ে দিতে চাইলেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা এটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। আমরা অনেক কিছুই বলতে পারি, তবে এটি কোনো সাধারণ ম্যাচ হবে না।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ রাতে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটালান্টায় বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ফাইনালে ওঠার অন্যতম এই মহারণ শুরু হবে। দুই দলের দ্বৈরথ যে সহজ হবে না সেই দাবি করে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলছেন, ‘আমাদের দলের জন্য ম্যাচটি কঠিন হতে যাচ্ছে। এটা ঠিক যে ইংল্যান্ড ভালো খেলছে। তবে তাদেরও কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে দুই দলের জন্যই বেশ কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।’
বিশ্বকাপে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর আগের পাঁচবারের দেখায় ইংল্যান্ড তিনবার ও আর্জেন্টিনা দু’বার জয় পেয়েছে। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনাই। তিনবারের লড়াইয়ে দু’বার জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।
এএইচএস

