গতকাল প্রেস কনফারেন্স কাভার করে হোটেলে ফেরার জন্য উবার ডাকা। দশ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পর বাতিল। এরপরও একই ঘটনা। কারণ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ উপলক্ষে স্টেডিয়াম নিকটবর্তী এলাকায় সমর্থকদের ভিড়, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কঠোর।
বাধ্য হয়ে স্টেডিয়াম থেকে আধ ঘণ্টা হাঁটতে হয়েছে। কিছুক্ষণ হাঁটতে হাঁটতে এক পাবে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের উল্লাস। ইংরেজিতে গান গেয়ে দলকে সমর্থন দিচ্ছেন। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা সেটা ভিডিও ধারণ করছেন।
আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও কম যাননি। তারাও পতাকা, বাদ্য বাজিয়ে আটলান্টা শহর গরম করে রেখেছেন। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ ফুটবল বিশ্বে অনেক পুরোনো ও ঐতিহাসিক। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল তাই আটলান্টা প্রশাসন এই ম্যাচ নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক।
ইংলিশ মিডিয়া বরাবরই সোচ্চার। সাবেক ইংলিশ ফুটবলার জো কোল আর্জেন্টিনাকে ঘুম পাড়াবে ইংল্যান্ড, এমন মন্তব্য করেছেন। এ নিয়ে স্কালোনিকে প্রশ্ন হলেও তিনিও খানিকটা খোঁচা দিয়েছেন, ‘এরকম কিছু শুনিনি। খেলার আগেই মন্তব্য করার মতো অবস্থা আমার নেই। তারা হয়তো অনেক বিজ্ঞ তাই এমন বলেছেন।’
আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড, কে জিতবে এ নিয়ে চলছে নানা বিচার বিশ্লেষণ। দুই দলেরই শক্তি-দুর্বলতা রয়েছে। আর্জেন্টিনা নকআউটে প্রতি ম্যাচই গোল হজম করেছে। তাদের ডিফেন্সের দুর্বলতা স্পষ্ট। এর বিপরীতে তাদের প্রতিপক্ষ দলে রয়েছে হ্যারি কেইন ও বেলিংহামের মতো স্ট্রাইকার। যারা ম্যাচ ঘোরাতে সক্ষম যে কোনো সময়।
আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপে খানিকটা ভিন্ন কৌশলে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড দশ জন হওয়ার পরও আর্জেন্টিনা খুব আক্রমণাত্নক ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলতে পারেনি। এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে অনেক। এতে অবশ্য মাথা ঘামাচ্ছেন না স্কালোনি, ‘আমাদের জয় প্রয়োজন। জয়ের জন্য দরকার ছিল আমরা তাই করেছি।’
আধুনিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের অবদান অনেক। বিশেষ করে ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ সারা বিশ্বের সেরা। সেই ইংল্যান্ড ৬০ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না। তাই ইংল্যান্ডের সমর্থক ও ফুটবল সংশ্লিষ্টরা বেশি উচ্ছ্বসিত।
সাউথগেটের সময় রাশিয়া বিশ্বকাপেও আলোচনায় ছিল ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেলা হয়নি। এবার ইংল্যান্ডকে কাগজ-কলমে এগিয়ে রেখে সেমিফাইনালিস্ট ধরা হয়েছিল। র্যাঙ্কিংয়েও তারা শীর্ষ চারে। এবার টুখেলের ইংল্যান্ড নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড কাগজ-কলমে প্রায় সমশক্তির। মেসির এক মুহূর্তে খেলার গতি বদলাতে পারে যে কোনো সময়। আবার কেইনরাও চমক দিতে পারেন। তবে অন্য ম্যাচের মতো এই ম্যাচও রেফারিও আসতে পারেন আলোচনায়। এই বিশ্বকাপে রেফারি-ভিএআর খুব আলোচিত। এই ম্যাচে কেমন হয় সেটাও দেখার বিষয়।
এজেড/এফএইচএম

