World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ডের ‘অস্বাভাবিক ভুল’ ও লাল কার্ড বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

ইংল্যান্ডের ‘অস্বাভাবিক ভুল’ ও লাল কার্ড বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের হাতে ট্রফি দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বকাপ প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি। ট্রাম্প নিজেও নাকি ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের খেলার খবরাখবর রাখতেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারে সেমিফাইনালে থেমেছে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এদিকে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে মার্কিন খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা বাতিলে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। কিন্তু ৬০ মিনিটের পর থেকে এই কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলই ইংলিশদের ডুবিয়েছে বলে সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের ধারণা। শেষ দিকে আর্জেন্টিনা দুটি গোল করে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে। বিশ্লেষকদের চোখে ধরা পড়া সেই সুরই এবার শোনা গেল ট্রাম্পের মুখে।

ইংল্যান্ডের ‘অস্বাভাবিক ভুল’ ও লাল কার্ড বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

গতকাল (শুক্রবার) ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইংল্যান্ডে একজন দারুণ খেলোয়াড় আছে, যার সঙ্গে আমি গলফ খেলেছি। সে হলো হ্যারি (কেইন), অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমার মনে হয়, তাকে রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় বানিয়ে তারা হয়তো ভুল করেছে। ফুটবল সম্পর্কে আমি-ই বা কতটা জানি? তারা এগিয়ে ছিল, আর তখনই তাদের সেরা খেলোয়াড়কে রক্ষণে পাঠিয়ে দিল।’

ইংল্যান্ড কোচের সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক উল্লেখ করলেও, নিজেকে ফুটবল জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করেন ট্রাম্প, ‘আমাদের তো একটু আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত, তাই না? তবে না, আমি কোচিং নিয়ে মন্তব্য করব না। কোচিং সম্পর্কে আমি-ই বা কী জানি? কিন্তু সিদ্ধান্তটা একটু অস্বাভাবিক ছিল।’

এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেওয়া বিষয়গুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। বিষয়টি ফিফাকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। ২৫ বছর বয়সী এই তারকা আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ে কড়া ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নিজেদের নীতির বাইরে হাঁটে ফিফা।

ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেওয়া ওই বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি (বিশ্বকাপ) অন্য যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে আলাদা। যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অবিস্মরণীয় সব মুহূর্ত ছিল। সম্ভবত সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি ছিল যখন ওই ভদ্রলোককে... ওটা কি লাল কার্ড ছিল? তখন আমি বাধ্য হয়ে জিয়ান্নি (ইনফান্তিনো)–কে ফোন করি। আমি বলেছিলাম, “জিয়ান্নি, আমি একটি সুপারিশ করতে চাই। ছেলেটিকে খেলতে দাও!” না, আমি আসলে সেটা বলিনি। আমি বলেছিলাম, আমি একটি অভিযোগ জানাতে চাই।’

ফিফার বালোগানের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্তে কোনো বিতর্ক দেখেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্টো ট্রাম্পের আক্ষেপ ফিফা উপযুক্ত কাজের স্বীকৃতি পাবে না, ‘আসলে এরপর কী হবে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেভাবে বিষয়টি হলো, সেটিই অনেক ভালো হয়েছে, কারণ এতে আর কোনো বিতর্ক থাকেনি। (বেলজিয়াম) ম্যাচটি জিতেছে এবং আমাদের দলও সব খেলোয়াড়কে নিয়ে খেলেছে। এখন ভেবে দেখলে বলতে হয়, তোমরা আরেকটি দারুণ সিদ্ধান্ত নিয়েছ। তবে এর জন্য তোমরা কখনোই যথাযথ স্বীকৃতি পাবে না।’

এএইচএস