নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেরদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি। সেটি উপেক্ষা করেই সাংবাদিকরা ফাইনালের ভেন্যু নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগমন। এদিন সাধারণত কোচ-অধিনায়কের প্রেস কনফারেন্স হয়, সেটা শুক্রবারেই সম্পন্ন হওয়ায় শনিবার ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সম্মেলন রেখেছিল। সেখানে উঠেছিল টুর্নামেন্টজুড়ে আলোচিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ প্রসঙ্গ। কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি।
আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের প্রধান। এই কমিটির সদস্য রয়েছেন সাবেক জার্মান তারকা ও কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানসহ আরও কয়েকজন সাবেক তারকা। তাদের অ্যাটাকিং ফুটবলারের র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে কিলিয়ান এমবাপে আবার ডিফেন্সের র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। এসব বিশেষজ্ঞ চলমান বিশ্বকাপের নানা টেকনিক্যাল বিষয় উপস্থাপন করেছেন।

সুইজারল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক পাসকেল জুব্রেলার লিড টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের। তিনি গোলরক্ষকদের সামনে এসে গোল সেভের বিষয়ে বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অতিরিক্ত সময়ে ফ্রান্সের আক্রমণ সামনে এসে “এক্স বক্স” করে থামিয়েছে। এক্স বক্স হচ্ছে গোলপোস্ট থেকে বেরিয়ে এসে ফরোয়ার্ডের জায়গা ব্লক করা। এই বিশ্বকাপে অনেক গোলরক্ষক এটা বেশ সফলভাবে করেছেন।’
এই বিশ্বকাপে লো ব্লকে খেলেছে বেশ কিছু দল। লো ব্লকে খেলে কেউ কেউ সফল হলেও আবার অনেকেই ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড এক গোলে এগিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লো ব্লকে খেলে ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। জাপানও একই পদ্ধতিতে ব্রাজিলের বিপক্ষে হেরেছে। লো ব্লকের কিছু নেতিবাচক বিষয় থাকলেও, ইতিবাচক দিকও বলেছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞ আর্সেন ওয়েঙ্গার। কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে এই বিশ্বকাপের কিছু তুলনামূলক বিশ্লেষণও করেছে এই গ্রুপ।
টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের উপস্থাপনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার জন্য সংক্ষিপ্ত সময় ছিল। এই বিশ্বকাপে আলোচিত বিষয় হাইড্রেশন ব্রেক। অনেকের মতে এই ব্রেকের ফলে খেলায় ছন্দপতন ঘটে। যার প্রভাব পড়ে ম্যাচের ফলাফলে। এ নিয়ে তিন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন ওয়েঙ্গার ও ক্লিন্সম্যানকে। দুই জনেরই একই উত্তর, ‘এটা নিয়ে আমরা বিশ্বকাপের পর বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট করব।’
এই বিশ্বকাপের অনেক বিষয় নিয়ে টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ও পরে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের আওতায় পড়লেও এড়িয়ে গেছেন। দুই দফা প্রশ্ন করে প্রকৃত উত্তর না পাওয়ায় আরেক সাংবাদিক একটু বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে প্রশ্ন শুরু করলেও সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনাকারী তাকে মাঝপথে থামিয়ে দেন।
গত বিশ্বকাপ হয়েছিল কাতারে। দোহা ও নিকটবর্তী শহরে সকল ম্যাচ হয়েছিল। তাপমাত্রা ও উচ্চতা সব ভেন্যুতেই ছিল সমান। আমেরিকার চেয়ে মেক্সিকোর দুই ভেন্যুর উচ্চতা ছিল বেশি। এটা ম্যাচে কেমন প্রভাব পড়েছে অন্য ভেন্যুর চেয়ে– এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্লিন্সম্যান বলেন, ‘মেক্সিকোর ভেন্যুতে কিছুটা বেশি উচ্চতা ছিল। ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচে ইংল্যান্ড সেই উচ্চতা দারুণভাবে সামলেছে। এখন পর্যন্ত আমার কাছে সেটাই সবচেয়ে দারুণ ম্যাচ মনে হয়েছে। আগামীকাল (আজ) ১০৪ নম্বর ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এত ম্যাচের মধ্যে উচ্চতাজনিত সমস্যার সামান্য প্রভাব পড়েছে, সেটার অনুপাত খুব কম।’
উচ্চতার পাশাপাশি ভ্রমণ নিয়েও প্রশ্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড় দেশ। এক শহর থেকে আরেক শহরের দূরত্ব অনেক বেশি। অনেক দলকে কয়েক হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হয়েছে। এটা ম্যাচের পারফরম্যান্সে কেমন প্রভাব পড়েছে– এমন প্রশ্নে ওয়েঙ্গারের উত্তর, ‘গত বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি ভ্রমণ হয়েছে। অনেক দল মানিয়ে নিয়েছে এটা। স্পেন ও আর্জেন্টিনা দুই দল ফাইনাল খেলছে, তারাও অনেক ভ্রমণ করেছে।’
এজেড/এএইচএস

