তুমুল উন্মাদনা ও রোমাঞ্চ ছড়ানো ফুটবল বিশ্বকাপ শেষের পথে। আর কেবল একটি ম্যাচ বাকি। ফাইনালের মহারণ। এবারের আসরের সেরা খেলোয়াড় কারা হচ্ছেন এবং ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে কারা এগিয়ে আছেন শেষ মুহূর্তে সেসবের হিসাব-নিকাশ চলছে।
আজ (রোববার) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে লড়বে আর্জেন্টিনা-স্পেন। যেখানে বিশ্বসেরা নির্বাচনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিচারে ছয়টি বড় পুরস্কারও তুলে দেবে ফিফা। এর মধ্যে শীর্ষ তিন পুরস্কার গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন গ্লাভ। যথাক্রমে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষকের হাতে উঠবে এসব মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
গোল্ডেন বুট
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয় ফিফা গোল্ডেন বুট। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। এবারও এই পুরস্কারটির বড় দাবিদার তিনি।
সমান গোল হলেও অ্যাসিস্টের দিক থেকে কিলিয়ান এমবাপের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে যাওয়া আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। যা তাকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে রেখেছিল। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে যান এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে ফরাসি অধিনায়কের গোলসংখ্যাকে ১০। যা তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে তুলে দিয়েছে। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির গোলসংখ্যা বর্তমানে ৮।

ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মেসি দুই গোল করলেও, তা গোল্ডেন বুট জয়ের জন্য যথেষ্ট হবে না। কারণ, গোলসংখ্যা সমান হলে ফিফার টাইব্রেকিং নিয়ম প্রযোজ্য হবে। প্রথম টাইব্রেকার হলো অ্যাসিস্ট। এমবাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করে মোট ৪টি অ্যাসিস্টে পৌঁছেছেন, যা মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যারও সমান।
এরপরও যদি গোল ও অ্যাসিস্ট– দুই পরিসংখ্যানই সমান থাকে, তাহলে দ্বিতীয় টাইব্রেকার হবে কে কত কম সময় খেলেছেন। এক্ষেত্রেও সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন এমবাপে। ফলে ফাইনালে মেসি যদি শুধু দুটি গোল করেন এবং কোনো অ্যাসিস্ট না পান, তাহলেও গোল্ডেন বুট যাবে ফরাসি তারকার হাতেই। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে দলীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি লড়াই চলবে ব্যক্তিগত পুরস্কারের জন্যও।
এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) — ১০ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
গোল্ডেন বুট জিততে মেসিকে যা করতে হবে
ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক (৩ গোল) করতে হবে
অথবা, ২ গোলের সঙ্গে অন্তত ১টি অ্যাসিস্ট করতে হবে
গোল্ডেন বল
আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে কাতারে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে এবং টুর্নামেন্ট কভার করা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংবাদমাধ্যমের ভোটে আসরের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত করে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা পান যথাক্রমে সিলভার বল ও ব্রোঞ্জ বল।
১৯৭৮ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার অনেক সময় এমন খেলোয়াড়ও জিতেছেন, যাদের দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। যেমন– জিনেদিন জিদান (২০০৬), লিওনেল মেসি (২০১৪ ও ২০২২) এবং লুকা মদ্রিচ (২০১৮)। কারণ, ফাইনাল শুরুর আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে ২০০২ সালে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন অলিভার কান।
মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি দুইবার গোল্ডেন বল জিতেছেন। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারও সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় শীর্ষে। তার সঙ্গে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও স্বদেশি সতীর্থ মাইকেল অলিসে। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম, নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এবং কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।
গোল্ডেন গ্লাভ
বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ গতবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন। বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচনে আসরজুড়ে গোলরক্ষকের প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং ক্লিন শিটের সংখ্যার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার ২০১০ সাল পর্যন্ত লেভ ইয়াশিন অ্যাওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। গত পাঁচ আসরের চারজন বিজয়ীই পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন।
এবারের বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে কেপ ভার্দের ভোজিনহা দুর্দান্ত সেভ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাকে নিয়ে ইন্টার মায়ামির আগ্রহের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন উরুগুয়ের অরল্যান্ডো গিল, পর্তুগালের দিয়োগো কস্তা, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল, মরক্কোর ইয়াসিন বুনো এবং মিশরের মোস্তফা শোবেইর।
এফআই

