World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

মেসির আর্জেন্টিনাকে ‘বোতলবন্দি’ করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

মেসির আর্জেন্টিনাকে ‘বোতলবন্দি’ করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

বল জালে স্পর্শ করার পরই নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনিশ সমর্থকদের উল্লাস। পুরো ম্যাচ জুড়ে অসংখ্য আক্রমণ করেও গোল আসছিল না। অধরা সেই গোল ১০৬ মিনিটে পেয়েছে স্পেন। 

১-০ লিড পাওয়ার পর স্পেন আরো ঘুচানো ফুটবল খেলে। আরেকটি গোলও করেছিল স্পেন। অফসাইডে সেই গোল বাতিল হয়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে আরেক গোলও বাতিল হয় স্পেনের ফাউলের জন্য। আর্জেন্টিনা শেষ মিনিট পাঁচেক দুটি কর্ণার পেলেও গোলের সুযোগ সেভাবে পায়নি। স্পেন নিরাপদে সময় পার করায় আর্জেন্টিনার হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। 

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের ফুটবলাররা কেউ শুয়ে পড়েন। কেউ আবার একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেন। কোচিং স্টাফরা মাঠে আসেন। দেল ফুয়েন্তে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে থাকলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনিও বাঁধনহারা আনন্দ করেছেন। 

আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টে দাপটের সাথেই খেলেছে। বিশেষ করে ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল নিজেদের করে নিয়েছে। আজ খেলার শুরু থেকে অন্য রকম আর্জেন্টিনা। বল পজিশন-আক্রমণ সব কিছুতেই মেসিরা পিছিয়ে ছিল৷ নির্ধারিত সময়ে একটি শটও অন টার্গেটে নেই আর্জেন্টিনার।

বিগত ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা ম্যাচের শেষ দিকে জ্বলে উঠেছে। এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এই রকম আশা ছিল। তবে আর্জেন্টিনা একেবারে হতাশ করেছে। নির্ধারিত সময়ে তো নয়-ই অতিরিক্ত সময়ে পিছিয়ে পড়েও কিছু করতে পারেনি। 

স্পেনের কোচ দেল ফুয়েন্তে ভালো ট্যাকটিশিয়ান। মেসিকে দুর্দান্ত মার্ক করায় তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। মেসি কিছু সময় বল নিয়ে আগানোর চেষ্টা করেও পারেননি। আবার মেসির বাড়ানো বল সতীর্থদের ধরার আগেই স্পেনিশ ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করেছেন। অধিনায়ক রদ্রি দুর্দান্ত খেলেছেন।

লিওনেল স্কালোনি প্রথমার্ধে দুই জন খেলোয়াড় বদল করেন ৷ দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি আরো তিন জন বদল করে কোটা শেষ করেন। লাউতেরো মার্টিনেজকে অবশ্য নামাননি ৷ আর্জেন্টিনা ম্যাচে কখনোই সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি। স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল নিয়ন্ত্রণ করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা প্রায় ৬০০ পাস খেলেন। পক্ষান্তরে আর্জেন্টিনা অর্ধেকেরও কম। 

স্পেনের ফুটবলারদের গতি ও উদ্দমের কাছে শুরু থেকে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। বল পায়ে ছিল না আবার প্রেসিংয়ের তাড়াও ছিল না। ফলে স্পেন নিজেদের মতো করেই খেলেছে। স্পেন বল রাখলেও ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল অনেক। ইয়ামাল গতি ও স্কিল দিয়ে ডিফেন্ডারদের ব্যতিব্যস্ত রাখলেও ফিনিশিং ছিল না।

আর্জেন্টিনা ম্যাচে এতক্ষণ ছিল শুধু গোলরক্ষক এমিলিয়েনো মার্টিনেজের জন্য। দুই অর্ধ মিলিয়ে বেশ কয়েকটি ভালো সেভ দিয়েছেন। না হলে আর্জেন্টিনার খেলা আগেই শেষ হতো। তবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। 

দশ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল পায় শুরুতে স্পেন। ফাউলে বাতিল হলে অপেক্ষা বাড়ে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টরেস গোল করে স্পেনকে আনন্দে ভাসান। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে হল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবারও একই চিত্র নাট্য। ঐ আসরের মতো এবারও স্পেন বিশ্বকাপ শুরু করেছিল পয়েন্ট হারিয়ে। 

এজেড/এইচজেএস