বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারল আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতা হলো না। অধিনায়ক লিওনেল মেসি রানার্সআপ মেডেল গলায় ঝুলালেন স্বাভাবিকভাবে। তারপর মঞ্চ থেকে নেমে আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকদের দিকে যেতেই আবেগে ভাসলেন তিনি। হৃদয় ভাঙার দুঃখ বেরিয়ে এলো চোখের জল হয়ে।
মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিউ জার্সির এই জমজমাট লড়াইয়ে স্পেনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তার দল ১২০ মিনিটে জালের ঠিকানা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
আমেরিকার এই টুর্নামেন্টটি ছিল প্রায় নিশ্চিতভাবেই মেসির শেষ। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া একরকম সেটাই নিশ্চিত করেছিল। যখন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজল, তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নেন। সতীর্থ বা প্রতিপক্ষ কেউই তাকে সান্ত্বনা দিতে পারছিলেন না।
রানার্স-আপ মেডেল সংগ্রহের জন্য নিজেকে সামলে নেওয়ার পর সেই মুহূর্তের আবেগের চাপ ফুটবলের সর্বকালের সেরা এই খেলোয়াড়ের জন্য বড্ড বেশি হয়ে গিয়েছিল। ফলে স্পেন ট্রফি তোলার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মেসি হয়তো ইন্টার মায়ামির সঙ্গে খেলে যাবেন। তবে তার দেশের হয়ে আর কখনোই সর্বোচ্চ স্তরে খেলার সম্ভাবনা নেই। কারণ পরবর্তী বিশ্বকাপ যখন অনুষ্ঠিত হবে তখন তার বয়স হবে ৪৩ বছর।
মেসি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেললেন। চার বছর আগে তিনি কাতারে তার দেশের হয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হন তিনি।
এক নজরে মেসির বিশ্বকাপ
৬টি ফিফা বিশ্বকাপে মেসি ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন। গোল ২১টি গোল। ১২টি অ্যাসিস্ট এবং ১টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২ বার রানার্স-আপ।
মেসির ক্যারিয়ারের ফিফা বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান:
৬টি টুর্নামেন্ট
৩৪টি ম্যাচ (ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি)
২১টি গোল (ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ)
১২টি অ্যাসিস্ট (ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি)
২৩টি জয়
৫টি ড্র
৬টি হার
১৬ বার ম্যাচ সেরা নির্বাচিত
১টি চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২২)
২টি রানার্সআপ ফিনিশ (২০১৪, ২০২৬)
এফএইচএম

