বিজ্ঞাপন

সংখ্যায় সংখ্যায় বিশ্বকাপ

ইয়ামাল প্রথম টিনএজার, মেসি-মার্টিনেজের রেকর্ড

ইয়ামাল প্রথম টিনএজার, মেসি-মার্টিনেজের রেকর্ড

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ১৬ বছর পর তারা তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় ট্রফি জিতল। এই সাফল্যের পথে একাধিক রেকর্ড গড়েছে। লামিনে ইয়ামাল, লিওনেল মেসিও গড়েছেন নানা কীর্তি। সংখ্যায় সংখ্যায় সেগুলো দেখে নেওয়া যাক।

স্পেনের এটি দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ২০১০ সালের পর প্রথম। তারা একাধিক বিশ্বকাপ জয়ী সপ্তম দল হলো।

বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপ জেতার তৃতীয় ঘটনা ঘটল। ২০০৮-১০ সালে একই কীর্তি গড়েছিল স্পেন এবং ১৯৭২-৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি।

ফেরান তোরেস তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ গোল এবং এই টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলটি করেন। এর আগে ২০২২ সালে কোস্টারিকার বিপক্ষে তিনি দুটি গোল করেছিলেন।

তোরেসের ১০৬ মিনিটের গোলটি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় সবচেয়ে দেরিতে হওয়া জয়সূচক গোল। বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড মারিও গোৎশের পর দ্বিতীয় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়সূচক গোল করার কীর্তি গড়লেন।

এই বিশ্বকাপে স্পেন মোট সাতটি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি, যা একটি একক টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিটের রেকর্ডকে আরো বাড়িয়ে দিল।

পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলিয়ারের কাছে খায় সেই গোল। যেকোনো বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নের ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে কম গোল হজমের ঘটনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি টুর্নামেন্টে কোনো গোল হজম না করা একমাত্র দল হলো ২০০৬ সালে সুইজারল্যান্ড। তারা শেষ ১৬-তে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে বাদ পড়েছিল।

০.৩ xG

পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ দলগুলো মাত্র ২.৩ এক্সপেক্টেড গোল (xG) তৈরি করতে পেরেছে—যা ম্যাচ প্রতি গড়ে ০.৩ xG। ১৯৯৬ সালের পর কোনো বিশ্বকাপ দলের এটিই সেরা রক্ষণাত্মক রেকর্ড।

৩৮

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন এখন টানা ৩৮টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে, যা ইতালির (২০১৮-২১) পুরুষ জাতীয় দলের গড়া সর্বকালের দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে।

৬/৭

স্পেন তাদের খেলা প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর ৭টি ফাইনালের মধ্যে ৬টিতেই জিতেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কেবল জার্মানি (৭) স্পেনের চেয়ে বেশি প্রধান শিরোপা জিতেছে।

৬৫ বছর ২৯ দিন

লুইস দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বকাপ জয়ী সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক ম্যানেজার বা কোচ হয়েছেন।

১৫

দে লা ফুয়েন্তে প্রধান টুর্নামেন্টগুলোতে তার খেলা ১৫টি ম্যাচের সবকটিতেই অপরাজিত রয়েছেন। ফিফা বিশ্বকাপ এবং উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে কোনো কোচের জন্য এটিই দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড।

১৪/১৫

বিশ্বকাপ এবং ইউরো মিলিয়ে খেলা শেষ ১৫টি ম্যাচের ১৪টিতেই জিতেছে স্পেন। একমাত্র যে দলটির বিপক্ষে তারা জিততে পারেনি সেটি হলো কেপ ভার্দে (০-০ ড্র)।

১৯ বছর ৬ দিন

১৯ বছর ৬ দিন বয়সে লামিনে ইয়ামাল ফিফা বিশ্বকাপ জয়ী চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে যৌথভাবে নাম লেখালেন। পাউ কুবারসি (১৯ বছর ১৭৮ দিন) হলেন সপ্তম সর্বকনিষ্ঠ। এ ছাড়া ইয়ামাল ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, যার সামনে আছেন ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের পেলে (১৭ বছর ২৪৯ দিন) এবং ১৯৮২ সালে ইতালির জুসেপ্পে বারগোমি (১৮ বছর ২০১ দিন)।

ইয়ামাল হলেন ইতিহাসের প্রথম টিনএজার, যিনি একই সঙ্গে ইউরো এবং ফিফা বিশ্বকাপ উভয় শিরোপাই জিতেছেন।

১০

ফাবিয়ান রুইজ ইতিহাসের মাত্র দশম খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে বিশ্বকাপ এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ উভয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলে শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়লেন।

১, ১, ২

রদ্রি প্রথম স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন। কুবারসি প্রথম স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান। উনাই সিমন দ্বিতীয় স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ পুরস্কার জেতেন।

৩২

৩২ বছর আগে ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের রোমারিওর পর রদ্রিই প্রথম গোল্ডেন বল বিজয়ী খেলোয়াড়, যার দল একই সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপাও জিতেছে।

বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনালে ওঠা শেষ চারটি দলই রানার্সআপ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে (১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল, ২০২২ সালে ফ্রান্স এবং ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনা)।

৩/৪

আর্জেন্টিনা তাদের শেষ চারটি ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের তিনটিতেই রানার্সআপ হিসেবে শেষ করেছে।

১৩ 

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নিজেদের গড়া রেকর্ড টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ধারার অবসান ঘটল। ২০২২ সালের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হারার পর বিশ্বকাপে এটিই তাদের প্রথম পরাজয়।

গত ৬০ বছরের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা একমাত্র দল যারা বিশ্বকাপের ফাইনালে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেনি। তারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত কীর্তি তিনবার করেছে—১৯৯০, ২০১৪ এবং ২০২৬ সালে।

লিওনেল মেসি ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলেছেন। ব্রাজিলের কাফুর পর তিনি তিনটি ফাইনালে অংশ নেওয়া দ্বিতীয় খেলোয়াড়। এ ছাড়া মেসিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনটি ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে নিজের দলের অধিনায়কত্ব করেছেন।

৩৯ বছর ২৫ দিন

মেসি ফাইনাল ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলা সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় (৩৯ বছর ২৫ দিন) হওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন।

২০ বছর ১৯ দিন

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনাল ম্যাচে প্রতিপক্ষ দুই দলের শুরুর একাদশের খেলোয়াড়দের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ছিল ২০ বছরেরও বেশি (২০ বছর ১৯ দিন)—লিওনেল মেসি (জন্ম জুন ১৯৮৭) এবং লামিনে ইয়ামাল (জন্ম জুলাই ২০০৭)।

৫৪

মেসির ৫৪ বার বল স্পর্শ করা ছিল তার পুরো বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শুরুর একাদশে খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে পঞ্চম সর্বনিম্ন।

১১

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ স্পেনের বিপক্ষে ১১টি সেভ করেছেন, যা গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের ফাইনালে যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য সর্বোচ্চ।

এনজো ফার্নান্দেজ বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড দেখা ষষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন এবং ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের জনি হেইতিঙ্গার পর প্রথম।

কিলিয়ান এমবাপে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ফিফা বিশ্বকাপে (২০২২ এবং ২০২৬) গোল্ডেন বুট জেতার অনন্য ইতিহাস তৈরি করেছেন।

২৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধ শেষ হওয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাঝখানে ২৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের দীর্ঘ বিরতি ছিল। হাফটাইমে পারফর্ম করেন শাকিরারা।

এফএইচএম