বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বেদনাদায়ক হারের পর আর্জেন্টিনার দলে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। একপ্রকার নীরবেই মাঠ ছেড়েছেন লিওনেল মেসিরা।
এরই মধ্যে বিশ্বকাপ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার নিকোলাস পাজ। নিজের জন্মভূমি স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হারের ক্ষত ভুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান তিনি।
ইতালির ক্লাব কমোর এই মিডফিল্ডার স্পেনের তেনেরিফেতে জন্মগ্রহণ করলেও তার ধমনীতে আর্জেন্টিনার রক্ত বইছে। তার বাবা পাবলো পাজও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছিলেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিকো পাজ লিখেছেন, ‘আজকের দিনে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গর্ব হচ্ছে এই দেশ ও এই দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে। আমি এমন এক অসাধারণ গোষ্ঠীর অংশ, যারা এই জার্সির জন্য জীবন দিতে পারে এবং প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের উজাড় করে দেয়। আমি শুধু সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে পারি।’

চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলা এই তরুণ তুর্কি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতির সুরে বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, এই বিশ্বকাপ ট্রফি আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমার যা কিছু আছে তার সবকিছু উজাড় করে দেব।’ একই সঙ্গে বিজয়ী দল স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে ভুলেননি তিনি, স্পেন এবং সকল স্প্যানিশদের অনেক অভিনন্দন।
২০০৪ সালে স্পেনের সান্তা ক্রুজ দে তেনেরিফেতে জন্ম নেওয়া পাজ এই ম্যাচের মাধ্যমে এক অনন্য নজির গড়েছেন। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজের জন্মভূমির মুখোমুখি হওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি। স্পেনে বেড়ে ওঠা ও স্প্যানিশ টোনে কথা বললেও পাজ সবসময়ই আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতেন।
ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা আমার মনে আর্জেন্টিনার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা বুনে দিয়েছিলেন। তিনি সবসময় আমার নাম লেখা আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে দিতেন এবং দূর থেকেই আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাতেন।’
এফআই
