বিজ্ঞাপন

ফার্গুসনের সেই অমর বাণী সত্যি, রক্ষণেই স্পেনের বিশ্বকাপ ট্রফি

ফার্গুসনের সেই অমর বাণী সত্যি, রক্ষণেই স্পেনের বিশ্বকাপ ট্রফি

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের একটি উক্তি প্রায় অমরত্বের পর্যায়ে, ‘আক্রমণভাগ ম্যাচ জেতাতে পারে, ডিফেন্স ট্রফি এনে দেয়।’ সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে সেটা আবারও প্রমাণ হয়েছে। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে। ফাইনালে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা যেখানে গোল খেয়েছে নকআউটের প্রতি ম্যাচই। 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেভারিট ও সম্ভাব্য শিরোপা জয় নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। সেখানে স্পেনের নাম থাকলেও খুব জোরালো ছিল না। ফ্রান্সের নামই ছিল সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে এমবাপে-দেম্বেলে-বারকোলাদের মতো ফরোয়ার্ড থাকলে ডিফেন্স নিয়ে ভাবতে হয় না– এরকম মনোভাব। সেটাও ভুল প্রমাণ করেছে স্পেন। সেমিফাইনালে তাদের জমাট ডিফেন্স ও পরিকল্পনার কাছে ফ্রান্স একেবারে ‘বোতলবন্দি’ ছিল। 

dhakapost

অবশ্য বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বিশ্বকাপে নবাগত দল কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। তখন অনেক বিশ্লেষক ও ফুটবলবোদ্ধা এই স্পেন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সেই দলই ধীরে ধীরে নিজেদের সামনে এগিয়েছে। ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষকে খুব বেশি গোল দেয়নি, তবে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিয়ে পেয়েছে চূড়ান্ত সাফল্য। 

স্পেন টানা ইউরো ও বিশ্বকাপ জিতল। এরপরও স্প্যানিশ ফুটবলের স্বর্ণযুগ বা সুপারস্টারদের আলোচনায় ইকার ক্যাসিয়াস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস ফ্যাব্রেগাস, সার্জিও রামোসদের নামই বেশি আসে। এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা ফুটবলাররা ছিলেন– লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে, হ্যারি কেইন এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। খানিকটা কম আলোচনায় ছিলেন স্পেনের ফুটবলাররা। এরপরও সেই রদ্রিগো হার্নান্দেজ, উনাই সিমনরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন। 

স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি মূলত মিডফিল্ডার। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ রদ্রিকে বিশ্বকাপে তাদের র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে পয়েন্ট দিয়েছে। গতকাল ফাইনালে মেসিকে আটকানোর পেছনে রদ্রির ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য। 

বিশ্বকাপে হেভিওয়েট ও আলোচিত কোচদের মধ্যে ছিলেন কার্লো আনচেলত্তি। সেই আনচেলত্তি ব্রাজিলকে বেশি দূর নিতে পারেননি। ইউরোপের অন্যতম সেরা কোচ থমাস টুখেল অত্যন্ত সমালোচিত হয়েছেন সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভুল কৌশলের জন্য। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তকে নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয়নি। তবে নীরবে তিনি তার কাজ সেরেছেন। বিশেষ করে রোনালদোর পর্তুগাল, এমবাপের ফ্রান্স, মেসির আর্জেন্টিনাকে তিনি যেভাবে রুখেছেন সেটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। নীরব থাকা ফুয়েন্তে একে একে অনেক রেকর্ড গড়েছেন। টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জেতা তন্মধ্যে অন্যতম।

dhakapost

স্পেন ফুটবল কাঠামো ও পরিকল্পনায় খুব এগিয়ে। ২০২৩ সালে সর্বশেষ নারী বিশ্বকাপে তারা চ্যাম্পিয়ন। এবার পুরুষ বিশ্বকাপেও শিরোপা জিতল। ফুটবল বিশ্বকাপে নারী ও পুরুষ বিশ্বকাপ একই দেশ জেতার ঘটনা একইসঙ্গে বিরল। 

স্পেন ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করেছে। ২০৩০ সালেও তারা অন্যতম স্বাগতিক। ওই বিশ্বকাপে স্বাগতিক হওয়া অনন্য। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক হিসেবে খেলার ঘটনাও নেই। সবমিলিয়ে স্পেন ফুটবলকে দিয়েছে অনেক, এখন যেন ফুটবলের স্পেনকে দেওয়ার পালা!

এজেড/এএইচএস