বিজ্ঞাপন

রদ্রিকে পেতে মাঠে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ, সম্ভাবনা কতটুকু?

রদ্রিকে পেতে মাঠে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ, সম্ভাবনা কতটুকু?

মাঝমাঠে দারুণ নিয়ন্ত্রণ ও অনবদ্য পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিগো হার্নান্দেজ। সাবেক এই ব্যালন ডি’অর–জয়ী তারকার জন্য এবার মরিয়া হয়ে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এমনকি এ নিয়ে লস ব্লাঙ্কোসদের বেশ আত্মবিশ্বাসীও দেখা যাচ্ছে। যদিও বিশ্বকাপ শেষ হতেই পিঠের চোট সারাতে ব্যস্ত রদ্রি।

৩০ বছর বয়সী এই তারকার সঙ্গে ম্যানসিটির চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তা সত্ত্বেও এনজো মারেস্কার স্কোয়াড থেকে রদ্রিকে ছিনিয়ে নিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর আগে যদিও ক্লাবটির সূত্র ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে জানিয়েছিল, এবারের দলবদল উইন্ডোতে রদ্রিকে পেতে বেশি জোর দেবে না রিয়াল। পরে বিশ্বকাপ শেষ হতেই ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ক্লাবটি নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছে।

বিশ্বকাপ জয়ে স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন রদ্রি। ম্যানসিটিতে তার ভবিষ্যত কিছুটা দোলাচলে পড়ে সেখানে পেপ গার্দিওলা ১০ বছরের কোচিং অধ্যায় শেষ করার পর। অভিজ্ঞ ‍দুই তারকা জন স্টোন এবং বার্নার্দো সিলভা ইতোমধ্যে সিটি ছেড়েছেন। পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার দুই বছরের চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন রিয়ালে। দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্যমতে– সিটিতে রদ্রির ভবিষ্যত বিশ্বকাপের নিশ্চিত হওয়ার কথা। তবে বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল এবং স্পেনের শিরোপা জয়ের পর তিনি ক্লাবটিতে থাকার ব্যাপারে কম আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

রদ্রি নিজেও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, ‘আমি আবার স্পেনে খেলতে চাই কি না, লা লিগা, মাদ্রিদে? হ্যাঁ অবশ্যই, আমি ফিরতে চাই। অতীতে অ্যাথলেটিকোর হয়ে খেলা আমাকে রিয়াল মাদ্রিদে যুক্ত হওয়া থেকে দূরে রাখতে পারে না…এমনটা আগেও হয়েছে। হয়তো সরাসরি ট্রান্সফার নয়, তবে ঘটনার প্রেক্ষাপটে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের প্রস্তাব আপনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না।’

dhakapost

অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ইনজুরির কারণে ২০২৪-২৫ মৌসুমের বেশিরভাগ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর, রদ্রি ২০২৫ সালের মে মাসে সিটির হয়ে খেলায় ফেরেন। এরপর ২০২৫-২৬ মৌসুমে হ্যামস্ট্রিং ও কুঁচকির ইনজুরিতে দু’বার মাঠের বাইরে গেলেও, তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ৩৩টি ম্যাচ খেলেন। এদিকে, সম্প্রতি নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে ভিড়িয়ে সিটি তাদের মিডফিল্ড আরও শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া তারা লিলে থেকে মরক্কোর ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও দলে ভেড়ানোর চেষ্টায় আছে।

গতকাল (শুক্রবার) সিটিতে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে রদ্রি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কোচ মারেস্কা বলেন, ‘বড় খেলোয়াড়দের নিয়ে সবসময়ই নানা জল্পনা-কল্পনা চলে। এ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমার মনে হয় এটা স্বাভাবিক। তা ছাড়া তারা বিশ্বকাপ জিতেছে এবং সে ছিল সেরা খেলোয়াড়দের একজন। প্রতিটি ম্যানেজারই রদ্রিকে দলে পেতে চাইবে কারণ সে একজন শীর্ষমানের খেলোয়াড়। তবে এখন আমার ধারণা সোমবার তার অস্ত্রোপচার হবে। তার ছুটি প্রয়োজন। তার বিশ্রাম দরকার। তাকে সেরে উঠতে হবে এবং এরপরই সে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে।’

২০১৯ সালে অ্যাটলেটিকো থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর রদ্রি চারটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ, তিনটি লিগ কাপ এবং ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। সিটির হয়ে ২৯৮টি ম্যাচ খেলে ২৮টি গোল এবং ৩২টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। রদ্রির আগমন সম্ভবত এই গ্রীষ্মে মাদ্রিদ সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে রোমাঞ্চকর খবর হতে যাচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সভাপতি পেরেজ এবং জেনারেল ম্যানেজার হোসে সানচেজ তাকে দলে ভেড়ানোর বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন, মাদ্রিদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এই মত পরিবর্তন ছিল সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি।

এখন ক্লাব-সমর্থক উভয়পক্ষই এই পজিশনে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে দলে নেওয়াকে আদর্শ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এমন একজন খেলোয়াড় যিনি স্পেনের তারকা হিসেবে সদ্যই বিশ্বকাপ জিতেছেন এবং নিজের সফল ক্যারিয়ারের পূর্ণতা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই এই পদক্ষেপ নিতে চেয়েছেন। তবে এই চুক্তির ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। কারণ ৩০ বছরের কাছাকাছি বয়সী খেলোয়াড়দের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে ক্লাবটি খুব একটা আগ্রহী হয় না। এ ছাড়া ২০২৪ সালে রদ্রি হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়েছিলেন এবং এমন পরিস্থিতিতে প্রায়শই যা ঘটে, সেই চোটের পর তার পেশীর সমস্যাও দেখা দিয়েছিল।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স রদ্রির শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনেক সন্দেহই দূর করেছে এবং এখন মূল মনোযোগ তার দলের জন্য কী অবদান রাখার ক্ষমতা রয়েছে, সেদিকেই নিবদ্ধ হয়েছে। যদিও কোচ হোসে মরিনিয়ো সরাসরি রদ্রিকে দলে নেওয়ার অনুরোধ করেননি, তবুও তার আগমন এমন একটি জায়গা শক্তিশালী করবে যেখানে পর্তুগিজ কোচ নতুন খেলোয়াড় চেয়েছিলেন। সহজেই অনুমান করা যায় যে, রদ্রির খেলার ভারসাম্য ও বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ দলকে বাড়তি শক্তি জোগাবে।

এর পাশাপাশি রয়েছে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতির বিষয়। গত দুই মৌসুমে একের পর এক কোচ বদল, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে অধারাবাহিকতা রিয়ালের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সেখানে রদ্রির অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাকে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

এএইচএস