ইস্টবেঙ্গলের দুর্দিনে ব্যথিত আসলাম

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২২ জুলাই ২০২১, ০৪:৩৭ পিএম


ইস্টবেঙ্গলের দুর্দিনে ব্যথিত আসলাম

উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব ইস্টবেঙ্গল। গত বছর ক্লাবের ১০০ বছর পূর্তিও হলো ঘটা করে। আর সেই ক্লাব আজ বড় সংকটে। ক্লাবের কর্মকর্তা ও স্পন্সরের দ্বন্দ্বে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) ইস্ট বেঙ্গলের খেলা বড় অনিশ্চিত। কলকাতা লিগেও খেলবে না জনপ্রিয় এই ক্লাবটি। 

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ফুটবলাররা অনেকটা নিয়মিত খেলতেন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে। বাংলাদেশেও ইস্টবেঙ্গলের অনেক সমর্থক রয়েছে। বাংলাদেশের সাথে ভিন্ন একটা টানও রয়েছে। এপার বাংলার লোকেরা গিয়েই কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল গড়েছে। 

গতকাল ঈদের দিন ক্লাবের সমর্থকরা গিয়ে আন্দোলন করেছে। সমর্থকদের ঠেকাতে পুলিশ লাঠির আঘাতও করেছে। সেই আঘাত এত দূর থেকে লেগেছে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলার শেখ আসলামের মনে, ‘আমার জীবদ্দশায় ইস্টবেঙ্গলের এমন অবস্থা আসবে কখনো কল্পনা করিনি। সমর্থকরা ক্লাবের প্রাণ। তাদের প্রতি এই আঘাত আমার মনেও বিদ্ধ করেছে।’

ইস্টবেঙ্গলের অনেক সাফল্যে জড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। ইস্টবেঙ্গলের অবিচ্ছেদ্য অংশ মুন্না-আসলাম ও রুমি। ইস্টবেঙ্গলে সেই সময়ের স্মৃতি রোমান্থন করলেন এভাবে, ‘৯১ সালের দিকে ঢাকায় খেলতে এসেছিল ইস্টবেঙ্গল। আমি তাদের বিরুদ্ধে গোল করে আবাহনীকে জেতাই। এতে ক্লাবের কর্মকর্তা পল্টু দাসের স্ত্রী অনেক কান্নাকাটি করে। পল্টু দাস তখন বলেন, তুমি ইস্টবেঙ্গলে খেললে এই কান্না থামবে। আমি তখন রুমি ও মুন্নার কথা বলি তিনি রাজি হন।’

ইস্টবেঙ্গলে মুন্না, আসলাম ও রুমিরা গিয়েই দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। আসলাম ও রুমি এক মৌসুম খেললেও মুন্না আরো দুই মৌসুম খেলেন। মুন্নার পরিচয় ছিল ডিফেন্ডার। ইস্ট বেঙ্গলে তিনি খেলেছেন মিডফিল্ড পজিশনে৷ ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলারে পরিণত হন মুন্না।

ক্লাবের সেই রমরমা দিন আর নেই। এখন অস্তিত্ব সংকটে। এই সংকটের জন্য ক্লাব কর্তাদের নেতৃত্ব গুণের অভাবকেই দায়ী করলেন আসলাম, ‘ভালো সংগঠক থাকলে এই অবস্থা হতো না। আজ ক্লাব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।’

স্পন্সর ও ক্লাব কর্তাদের সংকট মেটার আশা করছেন ইস্টবেঙ্গলে খেলা বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার, ‘ক্লাবের স্বার্থে দ্রুত এর নিরসন হওয়া উচিত। আশা করি যোগ্য নেতৃত্ব আসলে ক্লাব আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে।’ স্পন্সরের দেয়া কিছু শর্ত ক্লাব কর্তারা মানছেন না। তাদের ধারণা ওই শর্ত মানলে ক্লাবে আর ফুটবল কর্তাদের ক্ষমতা ও অধিকার থাকবে না। 

এজেড/এটি/টিআইএস

Link copied