সাংবাদিকদের সঙ্গে এনায়েতের আড্ডা

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:০৩ পিএম


সাংবাদিকদের সঙ্গে এনায়েতের আড্ডা

এই শিরোনামটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে খুব সাধারণ ও সাদামাটা মনে হতে পারে। সত্তর-আশির দশকে বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীদের কাছে এই শিরোনাম নিশ্চয়ই অনেক রোমাঞ্চকর। খেলোয়াড়ি জীবনে বাংলাদেশের অন্যতম ফুটবল কিংবদন্তি এনায়েতুর রহমান খানের সঙ্গে ক্রীড়া সাংবাদিকদের এ রকম আড্ডা সেই সময় ছিল অনেকটাই অকল্পনীয়।

২৭ বছর পরবাসে কাটানোর পর এনায়েতুর রহমান খান এখন দেশে। দেশের ফুটবলের এই কিংবদন্তীর সঙ্গে এক ফুটবল আড্ডার আয়োজন করে দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন (বিএসজেএ)। 

‘কিংবদন্তীর সঙ্গে’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানের মূল চরিত্র এনায়েতুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন দেশের আরো অনেক তারকা ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপু, জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, খুরশিদ বাবুল, আব্দুল গাফফার, শেখ আসলাম সহ আরো অনেকে। 

গাফফার, শেখ আসলাম, চুন্নু সবাই এক সুরে বলেন, ‘এনায়েত ভাই দেশের অন্যতম সেরা ফুটবলার নিঃসন্দেহে। তার খেলা দেখে আমরা শেখার চেষ্টা করেছি।’

অনেক দিন পর এনায়েত দেশে ফেরায় সবাই পুরনো দিনের ফুটবল গল্পে মাতেন। সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক উৎপল শুভ্র বলেন, ‘এনায়েত ভাই বাংলাদেশের ফুটবলে বিশেষ এক চরিত্র। তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় তিনি একটা রহস্যময় চরিত্রে রুপ নেন।’ আরেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দ্য ডেইলি স্টারের আল আমিন বলেন, ‘আমি এখানে সাংবাদিক হিসেবে নয়, একজন সমর্থক হিসেবে এসেছি। সব কিংবদন্তিকে কাছ থেকে দেখা সৌভাগ্যের বিষয়। এরা সবাই আমার শৈশব-কৈশোরের তারকা।’ 

আরিফুর রহমান বাবু বলেন, ‘এখানে আজ যারা উপস্থিত হয়েছেন। তারা সবাই অনেক বড় মাপের খেলোয়াড়। তবে এনায়েত ভাই আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার।’ তিনি ১৯৭৮ সালে এনায়েতুর রহমানের রেফারির সঙ্গে মেজাজ হারানোর ম্যাচের স্মৃতিচারণাও করেন।

এনায়েতুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি খুবই সাধারণ একজন খেলোয়াড়। আপনাদের এই ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।’ এনায়েত তার বক্তব্যে আরো বলেন, ‘এখানে যারা আছে তারা সবাই অনেক বড় মাপের ফুটবলার। বিশেষ করে আসলাম। অনেকের অনেক গোল আছে কিন্তু আসলামের গোলগুলো বিশেষ। কারণ তার গোলে দল জিতেছে অধিকাংশ সময়। খুরশিদ বাবুল অত্যন্ত পরিশ্রমী ফুটবলার। চুন্নুও দারুণ কুশলী ফুটবলার।’ 

এনায়েত দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। নিজের এই বিচ্ছিন্নতার কারণ স্পষ্ট না করলেও অন্য ফুটবলারদের বিষয় ইঙ্গিত করে পরোক্ষভাবে বলেছেন, ‘অনেকে আমাকে ভালো খেলোয়াড় বলে কিন্তু আমার চেয়ে অনেক ভালো খেলোয়াড় সান্টু, মঞ্জু। তারা দেশে থাকতে পারল না। দেশে সম্মান ও মূল্যায়ন না পেয়ে বিদেশে। ফলে অনেক বাবা-মাই তার সন্তানকে ফুটবলের দিকে দিতে চায় না।’ 

বক্তব্যের পর স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যদের হাতে বিএসজেএ’র পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। বিএসজেএ কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক দিলু খন্দকার। 

এজেড/এনইউ

Link copied