‘সোশ্যাল মিডিয়া ক্লিনিক্যালি আসক্তিকর নয়’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্লিনিক্যালি আসক্ত’ হওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান এক আলোচিত মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মামলাটিতে বিবাদী হিসেবে রয়েছে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। বাদী ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। আদালতে তাকে ‘কেলি’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তিকর ফিচার তৈরি করেছে কোম্পানিগুলো। এতে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে।
বুধবার আদালতে জবানবন্দি দেন মোসেরি। তিনি বলেন, ইনস্টাগ্রামে ‘সমস্যাজনক ব্যবহার’ হতে পারে। কিন্তু সেটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আসক্তি বলা ঠিক নয়। এটি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন। কেউ প্রয়োজনের বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন, আবার কেউ তা নিয়ন্ত্রণেও রাখতে পারেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার জানতে চান, মুনাফার জন্য কিশোরদের টার্গেট করা হয় কি না। জবাবে মোসেরি তা সরাসরি অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মে কিশোর ব্যবহারকারীদের থেকে আয় তুলনামূলক কম। তাদের ব্যয়যোগ্য আয় সীমিত। বিজ্ঞাপনে সাড়া দেওয়ার হারও কম।
২০১৮ সাল থেকে ইনস্টাগ্রামের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোসেরি। ২০০৮ সালে তিনি তখনকার ফেসবুকে যোগ দেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার অগ্রাধিকার।
তবে বাদীপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’, ‘অটোপ্লে’ ও ‘লাইক’ বাটনের মতো ফিচার তরুণদের দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপে আটকে রাখে। স্বীকৃতি পাওয়ার মানসিক চাহিদাকে পুঁজি করে এগুলো কাজ করে। ‘বিউটি ফিল্টার’ দেহ-ভাবনা বিকৃত করতে পারে বলেও অভিযোগ। আদালতে উল্লেখ করা হয়, বাদী একদিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ইনস্টাগ্রামে কাটিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মোসেরির মন্তব্য, সেটি অবশ্যই “সমস্যাজনক ব্যবহার” হতে পারে।
মোসেরির পারিশ্রমিক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে আদালতে। তিনি জানান, তার মূল বেতন বছরে প্রায় ৯ লাখ ডলার। বোনাস ও শেয়ার মিলিয়ে আয় অনেক বছর ১ থেকে ২ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। তবে তিনি দাবি করেন, পণ্যের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শেয়ারমূল্য নিয়ে তার ব্যক্তিগত উদ্বেগ কাজ করে না।
মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাদীর মানসিক স্বাস্থ্যসংকটের পেছনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা জটিলতা ছিল। প্ল্যাটফর্ম এককভাবে দায়ী— এ দাবি তারা মানে না।
মামলাটি এখন জুরি বোর্ডের বিবেচনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব ফেলছে— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আদালতে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই।