টুইটার কেনায় বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছিলেন মাস্ক

মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার (বর্তমান নাম এক্স) অধিগ্রহণ ইস্যুতে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি দেওয়ানি জুরি রায় দিয়েছে যে, ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কেনার সময় মাস্ক বিনিয়োগকারীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ২০২২ সালের। সে সময় টুইটার কেনার ঘোষণা দিয়েও পরে চুক্তি থেকে সরে আসার চেষ্টা করেন মাস্ক। তার দাবি ছিল, টুইটারে বট বা ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা অনেক বেশি। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ভুয়া অ্যাকাউন্ট ৫ শতাংশের কম কি না তা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’।
মাস্কের এই একটি টুইটের পরই বাজারে ধস নামে। টুইটারের শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ইতালীয় বিনিয়োগকারী জিউসেপ্পে পাম্পেনা এ ঘটনায় মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, মাস্ক ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিলেন যাতে শেয়ারের দাম কমিয়ে আনা যায়।
বিজ্ঞাপন
আদালতে মাস্কের আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি প্রকৃত উদ্বেগ থেকেই মন্তব্য করেছিলেন। তবে জুরি বোর্ড এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তারা মনে করছে, মাস্কের ওই টুইটটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এখনো চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারিত না হলেও মামলার আইনজীবীরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। যদিও কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের মালিক মাস্কের জন্য এটি বড় কোনো অংক নয়, তবে নৈতিকভাবে এটি তার জন্য বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, টুইট নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়ার ঘটনা মাস্কের জন্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালেও টেসলার শেয়ারবাজার সংক্রান্ত এক টুইট নিয়ে তিনি আইনি ঝামেলায় পড়েছিলেন। টুইটার অধিগ্রহণের পর তিনি এর নাম পরিবর্তন করে ‘এক্স’ রাখেন এবং পরবর্তীতে তা তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘এক্স এআইয়ের’ সাথে একীভূত করেন। বর্তমানে এই সমন্বিত কোম্পানির মূল্য ধরা হয়েছে ১১৩ বিলিয়ন ডলার।