বিজ্ঞাপন

অনলাইনে নারীদের কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়ার নতুন কৌশল

অনলাইনে নারীদের কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়ার নতুন কৌশল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নারী নিজের কথা বললেন। কোনো বিষয়ে মত দিলেন। প্রতিবাদ করলেন। কিংবা নিজের কাজ, চিন্তা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলেন। এরপরই শুরু হলো মন্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি কিংবা হুমকি। কখনো তার চেহারা, পোশাক ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে মন্তব্য করা হলো। কখনো আবার যৌন হয়রানির ভাষায় তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলো।

এই আক্রমণের লক্ষ্য সব সময় শুধু একজন মানুষকে অপমান করা নয়। অনেক সময় এর লক্ষ্য একজন নারীকে কথা বলা থেকে বিরত রাখা। তাকে বোঝানো, প্রকাশ্যে নিজের মত দেওয়া তার জন্য নিরাপদ নয়। ফলে অনলাইনের একটি মন্তব্য বা বার্তা ধীরে ধীরে একজন নারীর আত্মবিশ্বাস, সামাজিক যোগাযোগ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

‘ওয়েভ’ হয়ে আসত হুমকি

সাদিয়া মাহজাবীন প্রিয়তি একজন শিক্ষার্থী, অধিকারকর্মী ও শিল্পী। নিজের কথা বলার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন তিনি। কিন্তু নিজের মত প্রকাশ করতে গিয়ে অনলাইনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, যা তার কাছে ডিজিটাল পরিসরকে নিরাপদ জায়গা হিসেবে ভাবার সুযোগ কমিয়ে দেয়।

এই প্রতিবেদককে দেওয়া তার অভিজ্ঞতার বর্ণনায় উঠে এসেছে, অনলাইনে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের হুমকি তার জন্য নিয়মিত হয়ে উঠেছিল। কখনো মন্তব্য বন্ধ করে দিলে সেই আক্রমণ সরাসরি ব্যক্তিগত বার্তায় চলে আসত। আসত অশালীন ই-মেইলও। তার ভাষায়, এসব আক্রমণ যেন একেকটি ঢেউয়ের মতো আসত।

ঘটনাটি শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাইরে বের হওয়ার সময় নিজের পরিচয় আড়াল করতে মুখে মাস্ক ব্যবহার করতেন প্রিয়তি। কারণ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণা কখনো বাস্তব জীবনে শারীরিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে এই ভয় তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে। ডিজিটাল আক্রমণ তখন আর শুধু কয়েকটি মন্তব্যের বিষয় ছিল না; তা তার দৈনন্দিন জীবনযাপন ও নিরাপত্তাবোধকেও প্রভাবিত করছিল।

প্রিয়তির অভিজ্ঞতা দেখায়, অনলাইনে নারীকে চুপ করানোর কৌশল কতটা গভীরে যেতে পারে। একজন নারী যখন বুঝতে শুরু করেন যে নিজের মত প্রকাশের পর তাকে হুমকি, অপমান কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়তে হতে পারে, তখন পরবর্তীবার কথা বলার আগে তিনি নিজেকেই থামিয়ে দিতে পারেন। এভাবেই তৈরি হয় আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি অদৃশ্য দেয়াল।

মন্তব্যের আড়ালে যে আক্রমণ

বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের বিস্তার নিয়েও সাম্প্রতিক গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় বাংলাদেশের ছয়টি সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ৬০টি সংবাদে করা ৫ হাজার ৯২৯টি মন্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী নিপীড়নমূলক মন্তব্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ একটি নারী কোনো সংবাদ নিয়ে মত দিলেন, কোনো সামাজিক বিষয়ে কথা বললেন কিংবা কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেন—তার বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে দ্বিমত না করে তার নারী পরিচয়কে আক্রমণের বিষয় বানানো হচ্ছে। চেহারা, পোশাক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে। এতে আলোচনার বিষয়টি ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়; সামনে চলে আসে নারীকে হেয় করার চেষ্টা।

Women

নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি আলাদা নয়। বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের নিয়ে গবেষণায় যৌন হয়রানি, যৌন অবমাননা, হুমকি এবং পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো অনলাইন আক্রমণের কথা উঠে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা অনেক নারী সাংবাদিককে নিজের বক্তব্য নিয়েও সতর্ক করে তুলছে।

সাংবাদিক নিশিতা মিতুর কথায়, “আগে কোনো বিষয়ে মতামত দেওয়ার আগে এত কিছু ভাবতাম না। এখন কোনো বক্তব্য দেওয়ার পর সেটি কীভাবে নেওয়া হবে, কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, কিংবা পরিবারকে টেনে আনা হবে কি না— এসবও ভাবতে হয়।”

এই ভয়ই অনলাইন হয়রানির সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলোর একটি। আক্রমণকারী হয়তো একটি মন্তব্য করেই থেমে যায়। কিন্তু যার বিরুদ্ধে মন্তব্যটি করা হয় তার মনে সেটির প্রভাব থেকে যেতে পারে অনেক দিন। পরেরবার তিনি হয়তো লিখবেন না। প্রতিবাদ করবেন না। কোনো আলোচনায় অংশ নেবেন না।

সাংবাদিকতা করতে গিয়েও নীরবতার চাপ

নারী সাংবাদিকদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল। তাদের কাজের একটি বড় অংশই জনসমক্ষে কথা বলা, প্রশ্ন করা এবং তথ্য তুলে ধরা। কিন্তু অনলাইনে সেই কাজের জন্য যদি ব্যক্তিগত আক্রমণ আসে তাহলে পেশাগত স্বাধীনতার সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িয়ে যায়।

কবি ও সাংবাদিক হাবীবাহ নাসরিন বলেন, “একজন সাংবাদিক হিসেবে সমালোচনা শুনতে হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সমালোচনার জায়গা যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন মন্তব্য কিংবা হুমকিতে চলে যায়, তখন সেটি আর পেশাগত সমালোচনা থাকে না। তখন উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় একজন নারীকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া।”

গবেষণাতেও দেখা যাচ্ছে, অনলাইন হয়রানি নারী সাংবাদিকদের শুধু মানসিকভাবে আঘাত করছে না। এটি তাদের কাজের ধরনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে সম্ভাব্য আক্রমণের কথা চিন্তা করা, বিতর্কিত বিষয়ে না যাওয়া কিংবা মন্তব্যের আশঙ্কায় বক্তব্যের ধরন বদলে ফেলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

২০২৬ সালে ওয়ান-ইফরার ‘উইমেন ইন নিউজ’ জরিপেও বাংলাদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে অনলাইন হয়রানির বড় ধরনের লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য উঠে এসেছে। ৩৩৯ জন সাংবাদিকের ওপর করা জরিপে ৪৮ শতাংশ নারী সাংবাদিক অনলাইন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। পুরুষ সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই হার ১৫ শতাংশ।

অনলাইনের আক্রমণ, বাস্তব জীবনের ভয়

বাংলাদেশে নারীদের ওপর অনলাইন সহিংসতার ধরন শুধু কটূক্তি বা মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় হয়রানি, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অনুসরণ করা, যৌন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া— এ ধরনের বিভিন্ন আচরণের কথা উঠে এসেছে। এসব অভিজ্ঞতা উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

গবেষণাটি আরও দেখিয়েছে, সামাজিক কলঙ্কের ভয়, আইনি প্রতিকার সম্পর্কে সীমিত ধারণা এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কম আস্থা—অনেক সময় ভুক্তভোগীকে অভিযোগ করা থেকে দূরে রাখে। ফলে ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ্যে আসে না। অভিযোগ না হলে আক্রমণকারীও অনেক সময় আরও উৎসাহিত হয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মালিহা তাবাসসুম বলেন, “অনলাইনের আক্রমণ অনেক সময় বাস্তব সমাজের ক্ষমতার সম্পর্ককেই প্রতিফলিত করে। একজন নারী যখন নিজের মত প্রকাশ করেন, তখন তার বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা না করে নারী পরিচয়কে আক্রমণ করা মূলত তার কণ্ঠকে দুর্বল করার চেষ্টা।”

ভুক্তভোগীকে একা রেখে সমাধান নয়

অনলাইন হয়রানির শিকার হলে অনেক নারীকে বলা হয়, ‘ব্লক করুন’, ‘অভিযোগ করুন’ কিংবা ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করুন’। কিন্তু এতে সমস্যার দায় অনেক সময় ভুক্তভোগীর ওপরই চলে যায়। প্রশ্ন হলো, কেন একজন নারী নিজের কণ্ঠ বন্ধ করবেন? কেন তাকেই নিরাপদ থাকার জন্য জনপরিসর থেকে সরে যেতে হবে?

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেকনোনেক্সটের প্রধান ডিজিটাল কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, “ভুক্তভোগীকে শুধু ব্লক বা অভিযোগ করার পরামর্শ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা, প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ জায়গায় অভিযোগ করার সুযোগ তৈরি করা—সবকিছু নিয়েই সচেতনতা দরকার।”

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মনের বন্ধুর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তৌহিদা শিরোপার মতে, অনলাইন হয়রানির প্রভাবকে শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। দীর্ঘদিনের অপমান, হুমকি ও সামাজিক আক্রমণ একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস, নিরাপত্তাবোধ ও মানসিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, অনলাইনে হয়রানির শিকার একজন নারীকে শুধু কীভাবে অভিযোগ করতে হবে, তা জানালেই হবে না। তার মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তাকে দোষারোপ না করে শুনতে হবে, পাশে থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

অর্থাৎ ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন প্রতিষ্ঠান ও প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বশীলতা। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে নারী সাংবাদিক অনলাইনে হুমকি পেলে সেটিকে তার ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। কারণ হুমকির লক্ষ্য অনেক সময় তার ব্যক্তিগত পরিচয় নয়। তার পেশাগত ভূমিকা ও কণ্ঠও হতে পারে।

অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা টুডে-এর সম্পাদক মেহেদী মাহমুদ বলেন, “কোনো নারী সাংবাদিক অনলাইনে হুমকি পেলে সেটিকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো তার পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং যাতে ভয় বা হয়রানির কারণে তিনি তার পেশাগত দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে না যান, তা নিশ্চিত করা।”

নীরব হয়ে যাওয়া যেন স্বাভাবিক না হয়

অনলাইন হয়রানির সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটি হয়তো দৃশ্যমান নয়। একটি নারী যখন কোনো মন্তব্য মুছে ফেলেন, পোস্ট দেওয়া বন্ধ করেন কিংবা বিতর্কিত বিষয়ে কথা না বলার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে বাইরে থেকে হয়তো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত মনে হয়। কিন্তু এর পেছনে থাকতে পারে দীর্ঘদিনের অপমান, ভয় ও হুমকির অভিজ্ঞতা।

এভাবে একের পর এক নারী যদি নিজেদের কণ্ঠ ছোট করে ফেলেন, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজ। কারণ নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক আলোচনা পূর্ণ হয় না। নারী সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, শিল্পী, অধিকারকর্মী কিংবা সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী—সবার কথা বলার অধিকারই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাই অনলাইন নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়। এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং সমান অংশগ্রহণের প্রশ্ন। একজন নারীকে চুপ করিয়ে দেওয়া মানে শুধু একটি কণ্ঠ থামানো নয়; অনেক সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা, একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথাও থামিয়ে দেওয়া।

Women

করণীয় যা হতে পারে

অনলাইনে কোনো নারীকে আক্রমণ হতে দেখলে নীরব দর্শক না থেকে প্রথম কাজ হওয়া উচিত আক্রমণাত্মক মন্তব্য বা ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়া। কোনো পোস্ট বা ছবিকে যাচাই না করে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। কারণ একটি মন্তব্য বা শেয়ার কখনো কখনো হয়রানির পরিধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কেউ হয়রানির শিকার হলে তার পাশে দাঁড়ানো জরুরি। তাকে দোষারোপ না করে ঘটনা সংরক্ষণে সহযোগিতা করা, প্রয়োজনীয় প্রমাণ রেখে দেওয়া এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ করার বিষয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘এমন পোস্ট করলেন কেন’ না বলে ‘আপনার পাশে আছি’ বলা।

এছাড়া একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হিসেবে নিজেরও একটি দায়িত্ব আছে। কোনো নারী মত প্রকাশ করলে তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলে যুক্তি দিয়ে জবাব দিন। মতের বিরোধকে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত করবেন না। চেহারা, পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন বা নারী পরিচয়কে বিতর্কের অস্ত্র বানাবেন না।

কারণ একটি নিরাপদ অনলাইন পরিসর শুধু আইন, প্রযুক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা দিয়ে তৈরি হয় না। সেটি তৈরি হয় ব্যবহারকারীর আচরণ দিয়েও। আমরা প্রত্যেকে যদি আক্রমণকে উৎসাহ না দিয়ে প্রতিবাদের ভাষাকে যুক্তিনির্ভর করি, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়াই এবং নারীর কণ্ঠকে সম্মান করি তাহলে অনলাইনে নীরবতা চাপিয়ে দেওয়ার এই কৌশলকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন