বিজ্ঞাপন

অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ, লাভবান হবেন কারা?

অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ, লাভবান হবেন কারা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন নতুন প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনায় আসলে লাভবান হবে কারা?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আদেশের পর অ্যানথ্রপিক তাদের তৈরি দুটি নতুন এআই মডেল বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফেবল-৫’ ও ‘মিথোস-৫’। সরকারের দাবি, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তবে কী ধরনের ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু অ্যানথ্রপিকের ওপর নয়, পুরো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ওপর পড়তে পারে। প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের আলোচনায় উঠে এসেছে, অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক অন্য বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ভালো ছিল না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পদক্ষেপ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিস্থিতিতে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। কারণ তারা বলতে পারবে, সরকারের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, উন্নত এআই নিরাপত্তা প্রযুক্তি বন্ধ করে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তারা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন কিছু গবেষক। সেই বিষয়টি সামনে আসার পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

তবে অনেকের প্রশ্ন, এটি কি সত্যিই নিরাপত্তার কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত, নাকি অ্যানথ্রপিককে চাপে ফেলার কৌশল? কারণ এর আগে অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই মডেল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করেছিল। তারা বলেছিল, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। আবার একই সময়ে তারা নিজেদের নতুন মডেলকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি হিসেবে প্রচার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই নিয়ে বর্তমান বিতর্কের বড় একটি চিত্র এখানে দেখা যাচ্ছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তাদের প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাবে। অন্যদিকে সেই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

অদ্ভুতভাবে, এই বিতর্ক অ্যানথ্রপিকের জন্য কিছুটা প্রচারণাও তৈরি করতে পারে। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধের পর অ্যানথ্রপিকের এআই সহকারী ‘ক্লড’-এর ব্যবহার বেড়েছিল। অনেক ব্যবহারকারী তখন এটিকে তুলনামূলক নিরাপদ ও দায়িত্বশীল বিকল্প হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

এবারও কেউ কেউ মনে করছেন, সরকারের চাপ অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআইকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে।

তবে বড় প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, এআই নিয়ন্ত্রণ করবে কে? প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, নাকি সরকার? এই লড়াইয়ের ফল ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পথ নির্ধারণ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন