কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তবে এই খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।
তাদের মতে, এআইয়ের বাজারে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে টিকে থাকতে হলে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, থাকতে হবে নিজস্ব শক্তি ও আলাদা বৈশিষ্ট্য। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এক প্রযুক্তি আয়োজনে এআই খাতের দুই বিনিয়োগকারী বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এম১৩-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা কার্টার রিউম বলেন, প্রযুক্তির ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আগেও এসেছে। ক্লাউড প্রযুক্তি, স্মার্টফোন ও গাড়ি শিল্পেও এমন পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে এআইয়ের পরিবর্তনের গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, এখন নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু একে অপরের সঙ্গেই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করছে। কার্টার রিউমের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে রয়েছে বিপুল অর্থ, তথ্য ও দক্ষ জনবল। ফলে এআই খাতে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।
এআইভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বেসিস সেট ভেঞ্চার্সের অংশীদার চ্যাং শু বলেন, বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত শক্তি কতটা আলাদা এবং দীর্ঘমেয়াদে সেটি কতটা টিকে থাকতে পারবে। তিনি বলেন, এআইয়ের মূল প্রযুক্তির পাশাপাশি এমন প্রতিষ্ঠানেও সম্ভাবনা রয়েছে যারা এআই ব্যবহারের জন্য নতুন অবকাঠামো ও সেবা তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান দ্রুত আয় করছে। তবে সেই প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আর্থিক সেবা ও নিয়ন্ত্রিত খাতগুলোতে এআইয়ের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে যেতে পারে।
চ্যাং শু বলেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তির শক্তির ওপর নির্ভর করবে না, মানুষের প্রয়োজন, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে এটি কতটা যুক্ত হতে পারে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগকারীদের ধারণা, এআই বিপ্লবের শুরু মাত্র হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে নতুন ব্যবসার ধারণা ও নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
