বিজ্ঞাপন

সীমান্তে ফোনের তথ্য মুছে ফেলায় মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা

সীমান্তে ফোনের তথ্য মুছে ফেলায় মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে নিজের মুঠোফোনের তথ্য মুছে ফেলায় এক মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সরকার। তদন্তকারীদের দাবি, ফোন জব্দের সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি গোপন সংকেত ব্যবহার করেন। যা প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গেই ফোনের সব তথ্য মুছে যায়।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্যাম টিউনিক নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেন ফেডারেল কর্মকর্তারা। তাকে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে টিউনিকের আইনজীবীদের দাবি, এটি ছিল কেবল অজুহাত। প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল তার সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা।

সরকারের অভিযোগ, টিউনিক গোপনীয়তাকেন্দ্রিক অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক গ্রাফিন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতেন। ফোন আনলক করার আসল সংকেত না দিয়ে তিনি এমন একটি বিশেষ সংকেত দেন যা প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গেই ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি কম ব্যবহৃত আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই আইনে কর্তৃপক্ষের জব্দ করার আগেই কোনো সম্পদ নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

অন্যদিকে টিউনিকের আইনজীবীদের দাবি, বিমানবন্দরে তাকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছিল। তাকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কোনো পরোয়ানাও দেখানো হয়নি। তাই এ ঘটনায় সংগ্রহ করা সব প্রমাণ বাতিল করা উচিত।

তবে সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, তখন টিউনিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি সম্পন্ন হয়নি। তাই পরোয়ানা দেখানোর বাধ্যবাধকতা ছিল না।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার অধিকার সবার রয়েছে। বিশেষ করে অযৌক্তিক তল্লাশি থেকে ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে ভ্রমণকারীদের ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। এ কারণে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন