বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেও আমরা আগ্রহী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ‘দ্য ৩৭তম এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ (এডব্লিউজি-৩৭)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভা ঢাকায় আয়োজন করা বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে সম্মানের ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। এ সভার কার্যক্রম জাতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিটিআরসির বিভিন্ন দায়িত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সভাটি আয়োজনের মাধ্যমে দেশের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ও অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এ আয়োজন দেশের স্থানীয় শিল্প ও পেশাজীবীদের জন্যও এ অঞ্চলের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এবং মতবিনিময়ের মূল্যবান সুযোগ তৈরি করছে। ফলে এডব্লিউজি-৩৭কে শুধু পাঁচ দিনের একটি সভা হিসেবে দেখছে না বাংলাদেশ। বরং এটি জ্ঞান স্থানান্তর, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
এমদাদ উল বারী বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের পরিধি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে এপিটির কার্যক্রমে আরও বেশি অবদান রাখতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, এপিটির কারিগরি কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, আঞ্চলিক বিভিন্ন গবেষণায় সহযোগিতা করা এবং আরও বেশি বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞকে এপিটির বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপ ও নেতৃত্বের ভূমিকায় যুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশে এপিটির আরও বেশি কর্মসূচি আয়োজন এবং এ অঞ্চলে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ে অবদান রাখতেও আগ্রহী দেশটি।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, কোনো সদস্য শুধু সহযোগিতা থেকে সুবিধা নেবে এভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতা শক্তিশালী হয় না। বরং প্রত্যেক সদস্য নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে অবদান রাখলে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনাররা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচটি/এসএম
