বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, শুধু উদ্ভাবন সৃষ্টি করলেই হবে না, উদ্ভাবকদের অর্থায়ন, নীতিগত সহায়তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। জ্ঞানকে সমাধানে, গবেষণাকে পণ্যে, ধারণাকে উদ্যোগে এবং উদ্ভাবনকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্যে রূপান্তর করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাময় ধারণার কোনো ঘাটতি নেই। শিক্ষার্থী, গবেষক, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ক্ষেত্রে নতুন নতুন সমাধান তৈরি করছে। তবে এসব উদ্যোগকে বিনিয়োগ, শিল্প ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এখন অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এই সংযোগ তৈরির লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মেলায় ব্যক্তিগত উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ফাউন্ডারসহ ১০০ জনের বেশি উদ্ভাবক এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শন করবেন। এতে সারা দেশ থেকে ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক, করপোরেট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা অংশ নেবে।
মন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবন কখনোই বিচ্ছিন্নভাবে বিকশিত হতে পারে না। এর জন্য সরকার, শিক্ষাঙ্গণ, শিল্পখাত, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী, টেকসই ও বাজারমুখী উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তোলাই বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের অন্যতম লক্ষ্য।
মন্ত্রী আরও জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার উদ্বোধন করবেন বলে জানান মন্ত্রী। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’।
এসময় অনুষ্ঠাতব্য মেলার জ্ঞান ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, তিন দিনে ছয়টি প্লেনারি সেশন, ছয়টি প্যারালাল সেশন ও পাঁচটি গোলটেবিল বৈঠকসহ মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এসব আলোচনায় নীতিনির্ধারক, থিংক ট্যাংক, শিক্ষাবিদ, শিল্পনেতা, গবেষক, তরুণ উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেবেন।
মেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ‘ইনোভেশন হাব’ গড়ে তোলার কথাও তিনি।
এদিকে, মেলার ১৪টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে রয়েছে ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি; ইনফরমেশন ও ডিজিটাল টেকনোলজি; স্পেস, অ্যারোস্পেস ও অ্যাস্ট্রোনমি; হেলথ, মেডিকেল ও লাইফ সায়েন্স; আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, অটোমেশন ও রোবোটিক্স; অ্যাগ্রিকালচার ও ফুড টেকনোলজি; ন্যানোটেকনোলজি ও অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস; ক্লাইমেট, এনভায়রনমেন্ট ও সাসটেইনেবিলিটি; ফিনটেক, কমার্স ও বিজনেস; ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানুফ্যাকচারিং ও হার্ডওয়্যার; এনার্জি, পাওয়ার ও মোবিলিটি; এডুকেশন, স্কিলস ও হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট; স্মার্ট সিটি, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও আরবান সলিউশনস এবং সোশ্যাল, ক্রিয়েটিভ ও ইনক্লুসিভ সলিউশনস।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মেলাটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। এর ইমপ্লিমেন্টেশন পার্টনার হিসেবে রয়েছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
আরএইচটি/বিআরইউ
