তুরস্কে টুইটারে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৫৪ এএম


তুরস্কে টুইটারে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ

২০১৬ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অভ্যুত্থান থেকে রক্ষা পাওয়ার পর মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর কঠোর হন

টুইটার, পিন্টারেস্ট ও পেরিস্কোপে বিজ্ঞাপন দেখানো আইন করে নিষিদ্ধ করেছে তুরস্ক। বিতর্কিত পোস্ট সরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো তুরস্কে স্থানীয় প্রতিনিধি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। 

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ, মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) তুরস্কে একটি নিউমিডিয়া আইন জারি হয়েছে। নতুন ওই আইন অনুযায়ী, তুরস্কে স্থানীয় প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া তুরস্কের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি কর্তৃপক্ষ সামাজিক মাধ্যমের যেকোনো বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করতে পারবে।

• ১৯ জানুয়ারি থেকেই এ আইন কার্যকর। 
• নতুন আইনে তুর্কি কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কিত কনটেন্টে সরাতে পারবে।
• যারা আইন ভাঙবে, কমানো হবে তাদের ব্যান্ডউইডথ।
• ২০১৬ সালে তুরস্কে মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর কঠোর আসে। এতে অনলাইনে ঝুঁকে পড়ে মানুষ। 
• গত কয়েক মাসে ফেসবুক, ইউটিউব ও টুইটারকে লাখ লাখ ডলার জরিমানা করেছে তুরস্ক।

নতুন আইনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। 

তুরস্কের এ আইন বিষয়ে টুইটার ও তাদের লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপ পেরিস্কোপ এবং ছবি শেয়ারের প্ল্যাটফর্ম পিন্টারেস্টের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নতুন আইন মোতাবেক, তুর্কি কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কিত কনটেন্টে সরিয়ে দিতে পারবে। আগে কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত কনটেন্টে ঢোকার সুবিধা বন্ধ করতে পারত।

নতুন আইন মোতাবেক, যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তুরস্কের নতুন এ আইন ভাঙবে, তাদের ব্যান্ডউইডথ কমিয়ে দেওয়া হবে। যাতে ইউজাররা যোগাযোগমাধ্যমটিতে ঢুকতে না পারেন।

২০১৬ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অভ্যুত্থান থেকে রক্ষা পাওয়ার পর মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর কঠোর হন। এতে দেশটির মানুষ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। 

তুরস্কের আইন না মানায় গত কয়েক মাসে ফেসবুক, ইউটিউব ও টুইটারকে লাখ লাখ ডলার জরিমানা করেছে দেশটি। 

এদিকে তুরস্কের উপপরিবহনমন্ত্রী ওমর ফাতিহ সায়ান জানিয়েছেন টুইটার ও পিন্টারেস্টের ব্যান্ডউইথ আগামী এপ্রিলে ৫০ শতাংশ এবং মে মাসে ৯০ শতাংশ কমানো হতে পারে। 

তিনি বলেছেন, জাতির তথ্য, গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তুরস্কে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ ও নিয়মকে উপেক্ষা করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

এদিকে টুইটার জানিয়েছে, গত মাসে পেরিস্কোপের ব্যবহারকারী ক্রমাগত কমছে। ফলে মার্চের মধ্যে এটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। 

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, তুরস্কের নতুন এ আইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে এরদোয়ানের অপচেষ্টার অংশ।

এর আগে গত সপ্তাহে এরদোয়ান বলেছিলেন, সাইবার জগৎ মানবতার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। এ সময় তিনি তুরস্কের ‘সাইবার হোমল্যান্ড’ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন। 

গত সোমবার ফেসবুক জানিয়েছে, স্থানীয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী অনুমোদন দেওয়া যাবে আর কী যাবে না সে বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হলে প্রতিনিধি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। 

তুর্কিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মাইলেনা বায়ুম বলেছেন, ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব ও অন্যান্য মাধ্যমগুলো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে।  

এদিকে গত মাসে ইউটিউব জানিয়েছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি স্থানীয় পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর নতুন আইন তারা মেনে চলবে। 

এইচকে

Link copied