মালদ্বীপে ‘অপরাধী’ গানে দুলছেন বিদেশি পর্যটকরা

Abu Saleh Saadat
মালদ্বীপ থেকে ফিরে

১৯ মার্চ ২০২২, ০৫:৩৮ পিএম


ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে বছর জুড়েই থাকে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা। দেশটির মাফুশি দ্বীপ পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আর তাই সেখানে হোটেল-মোটেল ও ওয়াটার রাইডসহ পর্যটকবান্ধব নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। 

মাফুশির শান্ত-মনোরম পরিবেশই পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এখানে পানির রং নীল আর বালির রং সাদা। দ্বীপের চারদিকে অফুরন্ত জলরাশি। ওয়াটার রাইডের জন্যও খুবই জনপ্রিয় মাফুশি। এখানে সাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ওয়াটার রাইডের স্টলগুলো।

dhakapost

স্টলগুলোতে উচ্চশব্দে বাজছে বিভিন্ন গান। পর্যটকরা রাইড নিতে এখানে ভিড় করেন। হঠাৎই একটি স্টল থেকে কানে ভেসে এল বাংলা গানের সুর। বাংলা গানে দুলছেন পর্যটকরা। বাংলা ভাষা না জানলেও বিদেশিরা সুরে দুলছেন। স্টলে যে গানটি বাজছিল সেটি হলো দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘ও মাইয়া রে তুই অপরাধী রে, আমার যত্নে গড়া ভালোবাসা....’।  

বিদেশের মাটিতে বাংলা গান বাজানো ওই স্টলের নাম এরিনা ওয়াটার স্পোর্টস। সেখানে কথা হয় দায়িত্বে থাকা মালদ্বীপের নাগরিক আয়মানের সঙ্গে। অচিন ভাষার গানটির সন্ধান কীভাবে পেলেন তিনি, কেন গানটি ভালো লাগে- এসব নিয়ে কথা বললেন তিনি। 

dhakapost

ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে তিনি ঢাকা পোস্টের এই প্রতিবেদককে আয়মান বলেন, গানটির অর্থ আমি জানি না। তবে সুরটা আমাদের সবারই খুব ভালো লাগে, তাই নিয়মিত গানটি বাজাই। খুব ভালো লাগে গানটি, সেই সঙ্গে গানটির তালে তালে শরীর দোলাই আমরা। 

তিনি বলেন, আমাদের স্টলে আসা বিদেশি পর্যটকরাও গানটি শুনলে নিজেদের শরীর দোলান, তারা সবসময় বলেন, ‘ইটস এ নাইস সং’। আসলে ভাষা না বুঝলেও সুরটা চমৎকার লাগে। নিয়মিত শুনতে শুনতে আমাদের কাছে গানটি প্রিয় হয়ে উঠেছে।

dhakapost

তিনি বলেন, মালদ্বীপে অনেক বাংলাদেশি আমাদের দেশে চাকরি করেন, তাদের কাছেই প্রথমে গানটি শুনেছিলাম। এরপর সুরটি ভালো লেগে যাওয়ার কারণে আমরা গানটি তাদের কাছ থেকে নিয়ে নিয়মিত সাউন্ড বক্সে বাজাই। গানটি এতটাই চমৎকার সূর যে শুনতেই ভালো লাগে, গানের দুই একটি লাইনের অর্থ আমরা বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জেনে নিয়েছি। বাকি অর্থ বুঝি না, তবুও গানটি শুনি, ভালো লাগে। শুধু আমাদের এ স্টলেই নয় অন্যান্য স্টলেও গানটি নিয়মিত বাজানো হয়।

আয়মান জানান, তার এ স্টলে বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার রাইডের সুযোগ পান পর্যটকরা, এটাই তাদের ব্যবসা। কাজের মধ্যে নিজেদের ও পর্যটকদের চাঙ্গা রাখতেই বক্সে গান বাজানো হয়। এতে নিজেরাও নাচেন, সঙ্গে নাচেন পর্যটকরাও। 

এএসএস/আরএইচ

Link copied