বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য পর্যটন সেক্টর সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল টার্গেট হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। গ্রাজুয়েট করা আনএমপ্লয়মেন্টের সংখ্যা বাড়ছে যা এখন জাতীয় ইস্যু। এই বেকার জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে হলে পর্যটনই হবে সবচেয়ে বড় সেক্টর।
পর্যটন সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের পরিধি ও প্রভাব নিরূপণের লক্ষ্যে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) ২০২৬-২৭ প্রস্তুত কার্যক্রম সম্পর্কে অংশীজনদের অবহিতকরণ ও জরিপ প্রশ্নপত্র চূড়ান্তকরণ বিষয়ক কর্মশালায় একথা বলেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, পর্যটন খাত আমাদের অর্থনীতিতে কীভাবে অবদান রাখছে? এটার পার্সেন্টেজ আসলে কত? এটার কোনো সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। প্রতি বছর বাজেটের সময় আমরা একটা সংখ্যা বা পার্সেন্টেজ উল্লেখ করি। আমরা চাই আগামীতে এটা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট হোক। সেজন্য আমরা ট্যুরিজম নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করছি। এর আলোকে পর্যটন সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের পরিধি ও প্রভাব নিরূপণের লক্ষ্যে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) ২০২৬-২৭ প্রস্তুত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন আমরা ট্যুরিজমকে এত হাইলাইট করছি? এর কারণ বর্তমান সরকারের মূল টার্গেট হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
সচিব বলেন, ট্যুরিজমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জীবিকা হিসেবে ফোকাস করা হচ্ছে না। জিডিপিতে ট্যুরিজম খাতের অবদান আসলে কত? সেটা বের করা হবে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেজন্যই টিএসএ প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমরা হোটেলকেই শুধু আলাদা করে দেখাতে পারছি না। উদ্যোগ নেওয়া হলেও অতীতে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, স্ট্র্যাটেজিক প্লানিং করা হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে হাইলাইট করা হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে মূল অবদান রাখতে পারে কিন্তু ট্যুরিজম। এই সেক্টরে যদি আমরা ফোকাস করতে পারি তাহলে এটি জাতীয় কর্মসংস্থানে বিরাট অবদান রাখতে পারবে। আর এটির প্রারম্ভিক ধাপ হচ্ছে এই ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ)।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুর রউফ বলেন, এই যে উদ্যোগ শুরু হলো এটা নিয়মিত করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা পর্যটনখাতে কাঙ্ক্ষিত মান, গতি ও গন্তব্য অর্জন করতে পারবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মীর হোসেন বলেন, আমরা যদি সমন্বিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করি তাহলে এই টিএসএ প্রস্তুত জরিপ সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। আজকের কর্মশালায় উঠে আসা সবগুলো প্রশ্ন আমলে নিয়ে কোয়ালিটি পূর্ণ জরিপ সম্পন্ন করা হবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবিএসের ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট(টিএসএ) প্রস্তুত কার্যক্রমের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা স্বপন কুমার।
জেইউ/আরএফ/জেডএস
