বিজ্ঞাপন

সিলেট প্রান্তে গেলেই আক্ষেপ হয়, র‍্যাডক্লিফ তোমার এত তাড়া ছিল কেন?

সিলেট প্রান্তে গেলেই আক্ষেপ হয়, র‍্যাডক্লিফ তোমার এত তাড়া ছিল কেন?

৬ জুন, বিকেল। অপর প্রান্ত থেকে একটি মেসেজ এলো—ভাই, রেডি হন, হাওর যাবো। যে ব্যক্তির কাছ থেকে মেসেজটি এসেছে, তার সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে কাজের সূত্রে নিয়মিত কথা চালাচালি। নানা বিষয়ে যোগাযোগ হলেও কখনো সামনাসামনি দেখা হয়নি। মনটাও সায় দিলো, যাই একবার ঘুরেই আসি।

বাংলাদেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই আমার যাওয়া হয়েছে। দেশের নানা প্রান্তের মানুষ, প্রকৃতি আর জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। তবে কিছু জায়গা এখনো বাকি ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হাওর, কাপ্তাই আর সেন্টমার্টিন। বান্দরবানের পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের অধ্যায়ও শেষ করেছি অনেক আগেই।

যাই হোক, ভাইরাল হওয়া ‘আমি প্রবাসী শ্রমিক’ গানটির গায়ক এসআর রিফাত ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করলাম—যাওয়া হচ্ছে। তিনিও জানালেন, আমাদেরসহ ২২ জনের একটি টিম ১৪ জুন রওনা হবে। দেখা হবে কলমাকান্দায়। আমরা রংপুর থেকে রওনা হবো ১৩ জুন রাতে। মা-বাবা, ভাই-বোন, সহধর্মিণী, অফিস—সবাইকে ঢাকঢোল পিটিয়ে জানিয়ে দিলাম, ঘুরতে যাচ্ছি। তবে এই যাত্রা হবে ব্যাচেলর ট্রিপ।

৭ জুন থেকে ১৩ জুন। বিশাল লম্বা সময় শেষে রংপুরের বাস টার্মিনাল থেকে সাড়ে ৮শ টাকা ভাড়ায় শামীম ইন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ১৩ জুন রওনা হই নেত্রকোণার পথে। সঙ্গী রবিউল এবং জনি। পথিমধ্যে বগুড়ায় যাত্রা বিরতি এবং ভোর ৬টায় পৌঁছে যাই নেত্রকোণা। সেখানে একটি হোটেলে ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নেই দুপুর ২টা পর্যন্ত। রিফাত ভাই দুপুর ১টায় তার ভাগ্নে বক্করকে পাঠান আমাদের রিসিভ করার জন্য। সেও আমাদের এই ভ্রমণের সঙ্গী।

পাঁচগাও দেখা

ময়মনসিংহ, নেত্রোকোণা এইদিকের সড়কগুলো উত্তরবঙ্গের সড়কের থেকে পুরো আলাদা। সড়কগুলো অনেকটাই সরু। নেত্রকোণা থেকে সিএনজি নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি কলমাকান্দার উদ্দেশ্যে। জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা। পাহাড় অঞ্চলে যেমন যেদিকে চোখ যায় পাহাড় বা টিলা, হাওর অঞ্চলেও তেমন যেদিকে চোখ যায় হাওর বা বিল। কিছুদূর যাওয়ার পর চোখ জুড়ালো দূরের কিছু পাহাড়ের অবয়ব দেখে। বক্কর ভাইয়ের কাছে জানতে পারলাম, পাঁচগাঁও গেলে এই পাহাড়ের আরও কাছাকাছি দেখা মিলবে।

প্রায় এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে আমরা পৌঁছালাম কলমাকান্দা বাজারে। সেখানেই একটি খাবারের হোটেলে হলো দুপুরের খাবারের আয়োজন। মেন্যুতে ছিল হাওরের পাঁচমিশালি মাছ, হাঁসের মাংস, গরুর কালাভুনা এবং মাছের ভর্তা। মাছের ভর্তা আর মাছের তরকারির স্বাদেই দেড় প্লেট ভাত খেয়ে ফেললাম। খাওয়া শেষে আবার শুরু হলো পথচলা। এবার গন্তব্য পাঁচগাঁও।

এবার অটোরিকশায় করে প্রায় ৪৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছালাম পাঁচগাঁওয়ের চন্দ্রডিঙ্গায়। মূলত এটি ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের একটি অংশ, যা বাংলাদেশ সীমান্তে এসে মিশেছে। স্থানীয়রা এটিকে ‘পাঁচগাঁও টিলা’ বা ‘কলমাকান্দার পাহাড়’ নামেও ডাকেন। পাহাড়ের ঢাল যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত। পাহাড়ের ঢালে বেশ কিছু স্থানীয় ঘরবাড়ির দেখা মিললো। কিন্তু সেখানে যাওয়া নিষেধ।

মাঠের মতো ফাঁকা স্থানে কিছু ছোট ছেলেদের ফুটবল খেলা চলছে। কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তাদের ভাষা বোধগম্য হলো না। প্রকৃতির এমন দৃশ্য দেখে আবার অটোতেই ফিরতি পথ ধরলাম। আমাদের রিজার্ভ অটোতেই আরও দুজন যুক্ত হলো। হাতে মোবাইল, তারা ব্যস্ত ছিল ঝরনার শর্ট রিলস ভিডিও এডিট করতে। কৌতুহলি মনে জিজ্ঞেস করলাম এই ঝরনার ভিডিও কোথাকার। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী সীমান্তের কাছেই মেঘালয়ের পাহাড়ে এই ঝরনা। যাওয়া যায়, চোখ ফাঁকি দিয়ে। শুনে আমাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিলো না। আহারে স্যার সাইরিল র‍্যাডক্লিফ।

হাউসবোটে রাত্রি যাপন

ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় সন্ধ্যা ৭টা। রিফাত ভাই জানালেন, কলমাকান্দার মুক্তিরচরের ঘাটে আমাদের হাউসবোট অপেক্ষা করছে। নাম—আলপি বিলাস। আমরা চারজন গিয়ে উঠলাম হাউসবোটে। তখনো অন্য কেউ আসেনি। ছয় কক্ষের এই হাউসবোটটি বেশ বড়। রয়েছে সুবিশাল ছাদ। ছাদের ওপর বসার ব্যবস্থা। প্রতিটি কক্ষের সঙ্গে রয়েছে অ্যাটাচ ওয়াশরুম। রুমের সঙ্গে বড় বড় জানালা। বিছানার চাদর থেকে শুরু করে সবকিছুই ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আজ রাতের ঠিকানা এই হাউসবোট। ব্যাগগুলো রুমে রেখে চলে গেলাম ছাদে। 

নদীর পাড়ে হাউসবোটের ছাদে বসে কিছুক্ষণ চারপাশের পরিবেশ দেখতে থাকলাম। সারাদিনের ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল। প্রকৃতির বাতাস শরীরে যেন এক ধরনের প্রশান্তির ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর আমাদের ভ্রমণসঙ্গীরা আসতে শুরু করলেন। দেখা হলো রিফাত ভাইয়ের সঙ্গে। পরিচিত হলাম আরাফাত, দুর্জয়, তাহসীন, সাকিবসহ অন্যদের সঙ্গে। তারা সবাই নিজেদের বন্ধু-বান্ধব। এসেই সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন বাজারের কাজে। কিছুক্ষণ পর হাতে করে নিয়ে এলেন হাঁস, দেশি মুরগি ও অন্যান্য বাজার।

এদিকে সাকিব, বক্কর ভাইসহ অন্যরা কিছুক্ষণ পরপর আমাদের খোঁজ নিচ্ছিলেন। খোলা আকাশের নিচে নৌকার ছাদে বসে আড্ডা জমে উঠলো। চারপাশে নদী, মাথার ওপর আকাশ—এই অনুভূতিটাই ছিল অন্যরকম। রাত বাড়তে থাকলে বিদায় নিয়ে চলে এলাম নিজেদের রুমে। ফ্রেশ হয়ে গা এলিয়ে দিলাম বিছানায়। একটি তথ্য দিয়ে রাখা ভালো—হাউসবোট সাধারণত রাতে চলাচল করে না।

সাধারণত ভোরে অতিথিদের নিয়ে হাউসবোট যাত্রা শুরু করে। যারা হাওর ভ্রমণে আসেন, তারা ভোরেই এসব হাউসবোটে উঠে থাকেন। আমরা টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে রওনা হবো ১৫ জুন ভোরে। কিন্তু আমাদের প্রতি বিশেষ আতিথেয়তার জন্য রিফাত ভাই এই উদ্যোগ নিয়েছেন, যেন অতিরিক্ত একটি রাত আমরা হাউসবোটে কাটাতে পারি।

টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশে রওনা

খুব ভোরে দরজায় নক করার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। হাউজবোটের স্টাফ রং চা নিয়ে এসেছে। মুখে পানির ঝাপটা মেরে চায়ের কাপ হাতে নিয়েই চলে গেলাম ছাদে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। বসার স্থানে উপরে ছাতা। হাউসবোট সামনে এগুচ্ছে। ভোরের হাওয়া, বৃষ্টি, চা আর চারপাশের প্রকৃতি আমাকে যেনো নিয়ে গেলো অন্য জগতে। কিছুক্ষণ পর হাউসবোট ভিড়লো এক পাড়ে। সেখানে রিফাত আর দুর্জয় ভাইয়ের সঙ্গে আমিও নামলাম উদ্দেশ্য হাওরের তাজা মাছ কেনা। কিছুক্ষণ অপেক্ষার জেলেরা মাছ নিয়ে আসতে শুরু করলো। দামাদামি করে কেনা হলো হাওরের পাঁচমিশালি মাছ। বোটে উঠেই আবার যাত্রাশুরু। কিছুক্ষণ পর হালকা বৃষ্টির মধ্যে প্রকৃতি দেখতে দেখতেই সকালে খাবার শুরু হলো। খাবার মেন্যু- পোলাও এর চালের খিচুড়ি, ডিম ভুনা, শুকনো মরিচ ভর্তা, চাটনি। অমায়িক স্বাদ। খাবার খেয়ে বোঝা গেলো অভিজ্ঞ বাবুর্চির রান্না। হাউসবোটের রুমগুলোর শেষে নিচেই রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানেই হয় এইসব রান্নাবান্না।

খাবার শেষে দুধ চা হাতে আমার মতো কেউ প্রকৃতির রূপ দেখতে ব্যস্ত, কেউ ছবি তুলতে আবার কেউ গলা ছেড়ে গান গাইতে। হাওরে যারা যায়নি তারা এই দৃশ্যপটটি কল্পনা করতে পারবে না। আর যারা একবার গিয়েছে তারা প্রতি বছর একবার নিয়ম করে হাওরে যায়। বিশেষ করে বর্ষার সময়। আমারো মনে হলো, নদীর উপর ঘর, তার উপর ছাদ, সেখানে বসে খাওয়া দাওয়া, প্রকৃতি দেখা আসলেই ভোলার নয়।

বেশ কিছুসময় পর আমরা পৌঁছে যাই ওয়াচটাওয়ার। ওয়াচটাওয়ারে কিছু দূরে রাখা হয় আমাদের হাউসবোট। সেখানে ভেড়ে ছোট নৌকা। সেটিতে করে যেতে হয় ওয়াচটাওয়ারের কাছে। ছোট নৌকায় উঠে লাইফজ্যাকেট পরে নেই আমরা। ওয়াচটাওয়ারের কাছে গাছের সারির কাছে আসতেই দেই পানিতে লাফ। কিছুক্ষণ পানিতে ভিজে আমরা ফিরি বোটে।

যাত্রা শুরু হয়, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরের শহীদ সিরাজ হ্রদ বা শহীদ সিরাজ লেক বা নীলাদ্রি লেকের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতেই হাঁসের গোস্ত ও মাছ দিয়ে হয় দুপুরের ভূরিভোজ। দুপুর দিকে পৌঁছে যাই সেখানে। এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্থান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই এলাকায় বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হন বীর বিক্রম সিরাজুল ইসলাম। তাঁর স্মৃতি এবং বীরত্বকে সম্মান জানাতে সরকারিভাবে এই হ্রদের নামকরণ করা হয় "শহীদ সিরাজ হ্রদ"।

পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি "নীলাদ্রি" নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়। হ্রদের স্বচ্ছ নীল জল আর চারপাশের সবুজ পাহাড়ের মিতালির কারণে একে কাশ্মীরের সাথে তুলনা করে অনেকেই "বাংলার কাশ্মীর" বলে থাকেন। নীলাদ্রি লেকের মূল আকর্ষণ হলো এর পানির রঙ এবং চারপাশের ভূপ্রকৃতি। ভারতের মেঘালয় সীমান্তের কোল ঘেঁষে অবস্থিত হওয়ায় এর একদিকে রয়েছে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, আর লেকের ভেতরে রয়েছে চমৎকার নীল ও শান্ত জলরাশি। চুনা-পাথরের খনি হওয়ার কারণে এখানকার পানির রঙ গাঢ় নীল ও সবুজের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ তৈরি করে, যা দেখতে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন।

এখানে এসেও খানিকটা হতাশ হতে হয় আমাকে। উপরে পাহাড়টি পরেছে আরেক দেশের সীমান্তে। ঢাল থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সীমানা। যাইহোক, পাড়ে এক এক করে ভিড়তে শুরু করে আরো বেশ কিছু হাউসবোট। বিকেলে দলবল নিয়ে পাহাড়ের ঢালে চলে ফটোশেসন। সন্ধ্যায় বোটে ফিরে নাস্তার পর রাতের খাবার। এরপর বোটের ছাদেই আড্ডা।

সামনে পাহাড়, পেছনে নদী, মাথার উপর অন্ধকার আকাশ। আমাদের বোটেই রিফাত ভাইয়ের গলায় গান। প্রথমে শুনে চমকে উঠি। এতো সুন্দর গলা। এরপরেই জানতে পারি তিনি গানও গান এবং সেগুলোর কিছু গান ইউটিউব টিকটকে ভাইরাল। রাত যত গভীর হতে থাকে আমাদের আড্ডাও তত জমতে থাকে।

বারেক টিলা দর্শন

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা যখন ভারত উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নিয়ে পাকিস্তান এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নিয়ে ভারত গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই সীমানা নির্ধারণের জন্য গঠিত 'সীমানা কমিশন' এর প্রধান করে পাঠানো হয় স্যার সাইরিল র‍্যাডক্লিফ নামক একজন ব্রিটিশ আইনজীবীকে।

র‍্যাডক্লিফ এর আগে কখনো ভারতে আসেননি। এখানকার সংস্কৃতি, ভূগোল, নদী বা সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। র‍্যাডক্লিফকে পুরো উপমহাদেশ দ্বিখণ্ডিত করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৩৬ থেকে ৩৭ দিন! এত কম সময়ে সরেজমিনে ঘুরে সীমান্ত নির্ধারণ করা অসম্ভব ছিল। তাই তিনি মূলত ব্রিটিশদের ১৯৩১ সালের পুরোনো আদমশুমারি এবং কিছু প্রশাসনিক ম্যাপের ওপর ভিত্তি করে ডেস্কে বসেই কলম দিয়ে দাগ টেনে ম্যাপ কেটেছিলেন।

ব্রিটিশ আমল থেকেই আসাম এবং সিলেটের মধ্যে একটি স্পষ্ট প্রাকৃতিক সীমানা ছিল। মেঘালয়ের পাহাড়গুলো এত খাড়া যে, সে যুগে এগুলোকে একটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি দেয়াল বা সীমানা প্রাচীর হিসেবে দেখা হতো। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় স্যার সাইরিল র‍্যাডক্লিফ যখন দ্রুত ম্যাপ কাটার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি নতুন কোনো জটিল সীমানা তৈরি না করে ব্রিটিশদের তৈরি করা আসাম-সিলেট পুরাতন প্রশাসনিক সীমানা হুবহু বজায় রাখেন। পাহাড়ের খাড়া ঢাল যেখানে শেষ হয়ে সমতল ভূমি শুরু হয়েছিল, প্রশাসন চালানোর সুবিধার্থে সেই গোড়াটাকেই বর্ডার লাইন ধরা হয়েছিল।

বারেক টিলা এসেই র‍্যাডক্লিফের এই ইতিহাস মনে পরলো। এখানকার পাহাড়গুলো পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্তে। বাংলাদেশে কিছুই নেই বললেই চলে। বারেক টিলার মিনি সুইজারল্যান্ড পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে আফসোস হলো আমার। সেখান থেকে যাদুকাটা নদীর নীল পানিতে গোসল করতে নেমে দলের একজন তো বলেই ফেললো, ব্রিটিশরাই আমাদের সর্বনাশ করেছে বেশি।

আমিও দূরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ডুব দিতে দিতেই ভাবি, সিলেটে যত পাহাড় বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে দেখা যায় সব অন্য দেশের সীমান্তে। কিছু পাহাড় কি আমাদের পাওনা ছিলো না? র‍্যাডক্লিফ তোমার এতো তাড়া ছিলো কেন?

বিজ্ঞাপন