জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব শান্তা আক্তার। জয়ী ঘোষণার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির কথা স্মরণ করে অনেকটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন শান্তা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত নয়, বরং শহীদ ওসমান বিন হাদির বিশ্বাস ও শেষ ইচ্ছার প্রতিফলন। শান্তা বলেন, “নির্বাচনের আগে হাদি ভাই আমাকে ফোন করে বলেছিলেন শান্তা জিতে আইতে হবে।”

"হাদি ভাইয়ের সেদিনের কথাই ছিল আমার লড়াইয়ের মূল অনুপ্রেরণা। এখন আমি কেবল হাদির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে চাই—ভাই, আমি জিতে এসেছি।”

বুধবার (৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে জকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের শান্তা আক্তার এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আমি পুরো সময় হাসপাতালেই ছিলাম। এই কারণে আমি শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার সুযোগ পাইনি। তবু শিক্ষার্থীরা আমার পরিচয় এবং বিশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমার অনিচ্ছাকৃত সীমাবদ্ধতার পরও শিক্ষার্থীরা আমাকে চিনেছেন এবং ভোটের মাধ্যমে ভালোবাসা দিয়েছেন।”

জয়ের পর শান্তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচনী চাপের মাঝেও শিক্ষার্থীদের দেওয়া সাহস ও ভালোবাসাই আমাকে এ পর্যন্ত এগিয়ে এনেছে। আমি এখন আরও দৃঢ়ভাবে তাদের অধিকার রক্ষা এবং কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।”

শান্তা আরও বলেন, “এই জয় আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি না করা, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে সকল সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা। হাদির জীবন ও আত্মত্যাগ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি চাই তার স্বপ্ন যেন বাস্তব হয়—একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং সচেতন ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে।”

টিআই/এমটিআই