অবশেষে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদ হারালেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী

অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে সিএমএম আদালতে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকায় তাকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। একইসঙ্গে বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওই বিভাগের অধ্যাপক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এই নিয়োগ দেন বলে জানা গেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আইনি মতামত, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর দাবির প্রেক্ষিতে বিশেষ করে অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে সিএমএম আদালতে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতাউর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর নাম ঘোষণা করা হয়।
তবে তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার খবরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও পদ থেকে অব্যাহতির দাবিতে রোববার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর নেতৃবৃন্দ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের মামলার ৮ নম্বর আসামি। মামলাটির প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতু ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. জাবেদ পাটোয়ারী এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে।
এছাড়াও অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২২ সালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা ছাত্রদলের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতেও তিনি অভিযুক্ত।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও অ্যাকাডেমিক বয়কট শুরু করলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিভাগে উপস্থিত হন। তবে এরপরও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখার এক নেতাকে গোপনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে।
এসএআর/এমএন