জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রীদের নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিদ্বেষমূলক এবং অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাবির বর্তমান ও সাবেক ছাত্রীরা। 

গণমাধ্যমে জাবির বর্তমান ও সাবেক পাঁচ শতাধিক ছাত্রী বিবৃতি পাঠিয়ে এ নিন্দা জানান। তারা অনতিবিলম্বে এই বক্তব্যের জন্য শাবিপ্রবি ভিসিকে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনাসহ তার পদত্যাগের দাবি করেন। 

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রাপ্তি তাপসী ঢাকা পোস্টকে বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যে বক্তব্যটি দিয়েছেন, আমরা মনে করি এটি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সমগ্র নারী জাতির জন্য অবমাননাকর। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি যে ভয়ংকর নারীবিদ্বেষী ও লিঙ্গবাদী সেটি স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়।

তিনি বলেন, স্বাধীন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মতো স্থান যখন এমন কোনো ব্যক্তি অধিগ্রহণ করেন, তখন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা যেমন হুমকির সম্মুখীন হয়, একইসঙ্গে সমাজে নারীর প্রতি বিদ্বেষ ও বৈষম্য বৈধতা পায়। এই জায়গা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ করা অবশ্যই দরকার। 

প্রাপ্তি বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জন্য এরই মধ্যে তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনসম্মুখে ক্ষমাপ্রার্থনা করে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি তার প্রত্যক্ষ মদদে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে প্রশাসন হামলা চালিয়েছে।  আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। একইসঙ্গে আমরা এই আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছি। 

জাবির এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমরা শাবিপ্রবির আন্দোলনরত বন্ধুদের থেকে জানতে পেরেছি, তিনি শিক্ষাগুরু হিসেবে যেমন ব্যর্থ, একইভাবে প্রশাসনিক কাজ সম্পাদনেও ব্যর্থ। তাই তিনি উপাচার্যের পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। 

এএজে/এসকেডি